রবিবার, ২১শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৭ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৩রা সফর, ১৪৩৯ হিজরী

You Are Here: Home » অর্থনীতি-বাণিজ্য » নতুনদের জন্য বিনিয়োগ প্রাথমিক শেয়ারে

নতুনদের জন্য বিনিয়োগ প্রাথমিক শেয়ারে

অর্থনীতি-বাণিজ্য ডেস্কঃ

পুঁজিবাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম প্রাথমিক শেয়ারে (আইপিও) বিনিয়োগ। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য রাখা মোট পুঁজিকে তিন ভাগে ভাগ করতে হবে। এর একটি প্রাথমিক শেয়ারে, অন্যটি সেকেন্ডারি মার্কেটে এবং অপর একটি নিজের হাতে রাখতে হবে, যখন শেয়ারের দাম বেশি কমে যাবে তখন এ থেকে শেয়ার কিনতে হবে। সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে শেয়ার কিনলে লোকসানের ঝুঁকি থাকলেও প্রাথমিক শেয়ারে বিনিয়োগ করলে লোকসানের ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত কম। সম্প্রতি বাজারে আসা প্রাথমিক শেয়ার থেকে ভালো মুনাফা করেছেন বিনিয়োগকারীরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের অনেক শেয়ার ৭০ থেকে ৮০ টাকায়ও বিক্রি করেছেন। সম্প্রতি বাজারে টানা নিম্নগতির কারণে আইপিওতে আসার বেশ কিছুদিন পর ওই শেয়ারের মূল্য কমে যাচ্ছে। তবে ভালো শেয়ারে এমন ঘটনা খুবই কম।

অন্যদিকে সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগ করলে পরের দিন ওই শেয়ারের মূল্য কমে যেতে পারে, আবার বাড়তেও পারে। তবে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করে যদি বছরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন তাহলে লভ্যাংশ পাবেন বিনিয়োগকারী। বর্তমান বাজারে লভ্যাংশ দেওয়ার প্রবণতা খুব ইতিবাচক নয়। কোনো বিনিয়োগকারী যদি ২০ শতাংশও ডিভিডেন্ড পান, তবে আসলে কত শতাংশ রেট অব রিটার্ন পেলেন? সেটি মূল্যায়ন করে অনেকেই লভ্যাংশের আশায় বসে না থেকে শেয়ারের মূল্য বাড়লে বিক্রি করে দেন। ফলে দিন দিন বাজারে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। ট্রেডিংয়ের দিকে নজর দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো ৯০ শতাংশ ট্রেডিং করছে। ফলে বাজারে শেয়ার ধরে রাখার প্রবণতা কম। এ কারণে বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। এ জন্য পুঁজিবাজার নিয়ে যাদের ধারণা একেবারেই শূন্যের কোঠায়, তাদের সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগ না করে প্রাথমিক শেয়ারে বিনিয়োগ করাই উত্তম।

কীভাবে আবেদন করবেন প্রাথমিক শেয়ারে : প্রাইমারি কিংবা সেকেন্ডারিÑ যে কোনো বাজারে বিনিয়োগ করতে চাইলে সবার আগে বিনিয়োগকারীকে একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। ঢাকা বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের যে কোনো ব্রোকার হাউসে বেনিফিসিয়ারি বা বিও অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। একজন বিনিয়োগকারী তার নিজের নামে একটি এবং অন্য কারও সঙ্গে যৌথভাবে আরেকটি হিসাব খুলতে পারেন। একজন বিনিয়োগকারীর একক নামে, অপরটি যৌথ নামে করা সম্ভব।

বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ন্যূনতম বয়স হতে হয় ১৮ বছর। আবেদনপত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, নমিনির এক কপি ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে। জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের েেত্রও উল্লিখিত কাগজ ও ছবি জমা দিতে হবে। ব্রোকার হাউসভেদে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা নিয়ে থাকে।

নিয়মে আইপিওর জন্য একজন বিনিয়োগকারীকে কোম্পানির নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। সঙ্গে দিতে হয় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ। লটারিতে শেয়ার বরাদ্দ পেলে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীর বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার জমা হয়ে যায়। আর লটারিতে অকৃতকার্য হলে জমাকৃত অর্থ বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসাবে (অনলাইন ব্যাংকের েেত্র) স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্ট অনলাইন ব্যাংকে না হলে একটি চেকের (রিফান্ড ওয়ারেন্ট) মাধ্যমে তা ফেরত পান বিনিয়োগকারী। সাধারণত লটারি অনুষ্ঠানের সাত দিনের মধ্যে কোম্পানি শেয়ারের বরাদ্দপত্র বা অ্যালটমেন্ট লেটার ও রিফান্ড ওয়ারেন্ট বিতরণ করে। নির্দিষ্ট সময়ে কোম্পানি নির্ধারিত জায়গা থেকে হাতে হাতে অ্যালটমেন্ট লেটার ও রিফান্ড ওয়ারেন্ট নেওয়া সম্ভব।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top