সোমবার, ২০ মে ২০১৯ ইং, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রমযান ১৪৪০ হিজরী

You Are Here: Home » এক্সক্লুসিভ » ‘ডাকসুতে শোভনকে কি হারিয়ে দেয়া হয়েছে’

‘ডাকসুতে শোভনকে কি হারিয়ে দেয়া হয়েছে’

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন হেরেছে নাকি তাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে ? এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র ।যেখানে পূর্ণ প্যানেল জয়ী সেখানে ভিপি পদে হারে কি কারনে !

ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরের কাছে হেরে গেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। ডাকসুতে ২৫টি পদের মধ্যে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক ছাড়া বাকি ২৩ পদেই ছাত্রলীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ আবাসিক হলেও ছাত্রলীগের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন। কোনো কোনো হলে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল নিয়েই জিতেছে। ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের এ বিশাল বিজয়ের মধ্যেও সংগঠনটির শীর্ষনেতা শোভন কেন হারলেন, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ক্যাম্পাসের তারকা বনে যাওয়া নুরুল হক নুরের ব্যক্তি জনপ্রিয়তা এবং ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই বিজয়ী হতে পারেননি শোভন। নির্বাচন দেখভালের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, যে হলে ছাত্রলীগের প্যানেলের সবাই পাস করেছে, জিএস ও এজিএস পদে ছাত্রলীগের গোলাম রব্বানী ও সাদ্দাম হোসাইন জিতেছেন একই হলে শোভন কী করে নুরুর চেয়ে কম ভোট পায়! তার মানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অনেকেই শোভনকে ভোট দেননি। শোভনকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে ।

কী কারণে এমনটি হয়েছে জানতে চাইলে ওই নেতারা বলেন, এটা দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা ছাত্রলীগের সিন্ডিকেটের আধিপত্যের কারণেই হয়েছে। এবারের কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগে আধিপত্য বিস্তার করে আসা সংগঠনের সাবেক শীর্ষনেতাদের সিন্ডিকেট তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।উত্তরবঙ্গের ছেলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সিন্ডিকেটের বাইরে থেকে এসে ছাত্রলীগের সভাপতি হন। যে কারণে শোভনকে শুরু থেকেই মেনে নিতে পারেননি ছাত্রলীগের সাবেক ওই শীর্ষনেতারা। এবারের ডাকসু নির্বাচনে তাদের অনুসারীদের দিয়ে শোভনকে হারানোর সব চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করছেন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েক নেতা।

যুক্তি দেখিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রভাবশালী নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা হলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ওই হলে ছাত্রলীগের প্যানেলের জিএস প্রার্থী পেয়েছে ১৬০০ ভোট, এজিএস প্রার্থী পায় ১৫০০ ভোট। কিন্তু ভিপি প্রার্থী পেয়েছে মাত্র ৫০০ ভোট। এ থেকে বোঝা যায়, ছাত্রলীগের সবার ভোট শোভন পাননি। ওই নেতা আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হলসহ বেশ কয়েকটি হলে হল সংসদ নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল জিতেছে ছাত্রলীগের। অথচ খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ওই সব হলে শোভনের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে নুর।

ভিপি পদে নুর পেয়েছেন ১১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট। নুরের ভোটপ্রাপ্তির কারণ হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাহসী ভূমিকাকে বড় করে দেখা হচ্ছে। পটুয়াখালী বাড়ি হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর বরিশালের ছেলেমেয়েদের ভোটও পেয়েছেন নুর। এ ছাড়া ভোটের দিন রোকেয়া হলে নুরের ওপর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবরও নুরের ভোটপ্রাপ্তির হার বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের এক কর্মী বলেন,  প্যানেলেরই প্রভাবশালী এক নেতা শোভনকে হারিয়ে দিতে তার অনুসারীদের কাজে লাগিয়েছে ।

জানতে চাইলে ডাকসু নির্বাচন পরিচালনার অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান গনমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনে ছাত্রলীগের বিশাল বিজয় এসেছে। এ বিজয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। এ জন্য আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানাতে চাই। তাদের রায়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। তবে নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত কাজে জড়িত থাকায় আমার এক ধরনের উপলব্ধি হয়েছে, ভিপি পদটি হারাবার কারণ হিসেবে আমি দেখি, এ পদটির ব্যাপারে ছাত্রলীগের সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাব ছিল।

কমিটির আরেক সদস্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, ভিপি পদে পরাজয়ের কারণ খোঁজার চেষ্টা করা হবে। এর ভিত্তিতে একটি মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top