শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯ ইং, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী

You Are Here: Home » এক্সক্লুসিভ » প্রকৌশলীকে চসিক মেয়র নাছিরের ‘থাপ্পড়’

প্রকৌশলীকে চসিক মেয়র নাছিরের ‘থাপ্পড়’

নিউজ ডেস্ক:

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের এক প্রকৌশলীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে। এসময় মেয়রের সামনে একজন কাউন্সিলরও ওই প্রকৌশলীকে পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর আন্দরকিল্লায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের কার্যালয় নগর ভবনের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স হলে এ ঘটনা ঘটেছে।

মারধরের শিকার ওই প্রকৌশলী হলেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান পলাশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ভূমিতে সিটি করপোরেশনের সড়ক প্রশস্তকরণ নিয়ে কথা বলতে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শামসুল আলমের নেতৃত্বে ছয় জনের একটি টিম মেয়রের কার্যালয়ে যান। টিমে আরও ছিলেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী-১ মো. অলিউল ইসলাম ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী-২ ছোটন চৌধুরী, সহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান পলাশ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন এবং নকশাকারক অশোক কুমার কর্মকার।

সূত্র জানায়, নগরীর হালিশহরে পোর্ট কানেকটিং সড়কে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। হালিশহরের বরফকল এলাকায় ড্রেনসহ সড়ক সোজা করতে গিয়ে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রায় ৫০ ফুট জায়গা দখলে নিয়েছে সিটি করপোরেশন। এ নিয়েই মূলত সিটি করপোরেশনের সঙ্গে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বিরোধ শুরু হয়। সেই বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের আগ্রহে মেয়র সোমবার সন্ধ্যায় সময় দিয়েছিলেন তাদের।

আশ্রাফুজ্জামান পলাশ সারাবাংলাকে বলেন, ‘মূল নকশায় সড়কটি আছে ১২০ ফুট। কিন্তু কাজ শুরুর পর দেখা গেল, সিটি করপোরেশন ১৭০ ফুট জায়গা নিয়েছে। এতে আমাদের জায়গাও ঢুকে গেছে। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া তো এভাবে কোনো সংস্থার জায়গা অধিগ্রহণ করার নিয়ম নেই। আমরা প্রথমে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু তিনি মেয়রের সঙ্গে কথা বলতে বলেছিলেন। আমরা আজ (সোমবার) সকালে ফোন করে মেয়র মহোদয়ের কাছে সময় চাইলে তিনি সন্ধ্যায় যেতে বলেন।’

‘আমরা সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিটি করপোরেশন ভবনের দোতলায় মেয়র মহোদয়ের অফিসে যাই। তিনি তখন তৃতীয় তলায় কনফারেন্স হলে একটি মিটিং করছিলেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় বসে থাকার পর আমরা কনফারেন্স হলে যাই। তখন একজন নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়ে মেয়র মহোদয়কে বলেন, স্যার উনারা গৃহায়ণের লোক, রাস্তা নিয়ে আমাদের সঙ্গে ঝামেলা হচ্ছে। মেয়র মহোদয় ওই প্রকৌশলীকে বললেন, রাস্তা যেভাবে হচ্ছে, সেভাবেই হবে। কে ঝামেলা করছে?’— বলেন তিনি।

আশ্রাফুজ্জামান জানান, তখন গৃহায়ণের সবাই মেয়রকে সালাম দিয়ে তার কাছে যান। তিনি মেয়রকে বলেন, স্যার যদি বেয়াদবি না নেন, রাস্তাটার বাঁক আগে যেরকম ছিল সেরকম থাকলে আমাদের জায়গা ঠিক থাকত। রাস্তা সোজা করতে গিয়ে আমাদের জায়গাও দখল হয়ে যাচ্ছে। আর যদি মন্ত্রী মহোদয় কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলে জায়গাটা নিয়ে নেন, তাহলে আমাদের আর কোনো সমস্যা হয় না।

তখন মেয়র বলেন, আপনাদের হাউজিংয়ের সব জায়গা তো অবৈধ দখল হয়ে আছে। রাস্তার জন্য জায়গা দিতে সমস্যা কোথায়?

পলাশ বলেন, ‘মেয়র মহোদয়ের এই কথার জবাবে আমি বললাম, স্যার আমরা নিয়মিত উচ্ছেদ করি। কিন্তু এটা তো বাস্তবতা, অনেক সরকারি ডিপার্টমেন্টের জায়গায় অবৈধ দখলে আছে। এমনিক শহরের ফুটপাতগুলোও তো দখল হয়ে আছে। এসময় মেয়র মহোদয় ক্ষুব্ধ হয়ে গালাগাল করতে করতে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান। আমাকে চড় মারলেন। বললেন তোর বাড়ি কই? আমি বললাম, স্যার, গোপালগঞ্জ। তখন তিনি আরও রেগে গেলেন। আমি বললাম, স্যার, আমাকে মারলেন কেন? আমার অন্যায়টা কোথায়?’

আশ্রাফুজ্জামান আরও বলেন, ‘মেয়র চড় মারার পর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলর সেখানে ছিলেন। তিনি আমার শার্টের কলার ধরে আমাকে ঘুষি মারতে মারতে কনফারেন্স হলের বাইরে নিয়ে যান। আমাদের সিনিয়র স্যারেরা বারবার অনুরোধ করেও আমাকে মারধরের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। পরে আমরা সবাই সেখান থেকে চলে আসি।’

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘ওই ইঞ্জিনিয়ার মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে বেয়াদবি করেছে। তখন আমি বলেছি, তুমি কার সঙ্গে বেয়াদবি করতেছ, তুমি জান? উনি কে তুমি জান? তোমার বাড়ি কোথায়? এসব বলতে বলতে তাকে আমি টেনে বাইরে নিয়ে যাই। কিন্তু মারধর করিনি। এসময় আমি হয়তো উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করেছি। কিন্তু গায়ে হাত তুলিনি।’

মেয়র চড় মেরেছেন কি না— জানতে চাইলে কাউন্সিলর জোবায়ের বলেন, ‘মেয়র সাহেব থাপ্পড় তুলেছেন, কিন্তু দেননি।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে থাকেন।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শামসুল আলম বলেন, ‘আমি বিষয়টি গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মহোদয়কে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। যতটুকু জানি, চেয়ারম্যান স্যার মন্ত্রী মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছেন। এছাড়া ঘটনার পর অফিসে এসে আমরা সব কর্মকর্তারা মিলে জরুরি বৈঠকে বসেছি। আমরা লিখিতভাবে চেয়ারম্যান স্যারকে একটি অভিযোগ দিচ্ছি।’- সারা বাংলা।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top