সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ ইং, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ রমযান ১৪৪০ হিজরী

You Are Here: Home » জিরো আওয়ার » “স্বাধীনতা পুরস্কার নিয়ে প্রাসঙ্গিক ভাবনা”

“স্বাধীনতা পুরস্কার নিয়ে প্রাসঙ্গিক ভাবনা”

প্রফেসর ড. আব্দুল খালেকঃ

দেশের যাঁরা সেরা কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, গবেষক, দার্শনিক, সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, চিন্তাবিদ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা অসামান্য অবদান রেখেছেন, ত্যাগের মহিমায় যাঁরা অনন্য তাঁদেরকেই সাধারণত স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়ে থাকে। কাজেই বলা যেতে পারে বাংলাদেশের যাঁরা শ্রেষ্ঠ সন্তান স্বাধীনতা পুরস্কার তাঁদের জন্য এক মহাসম্মান এবং স্বীকৃতি। বাংলাদেশে যতগুলো জাতীয় পুরস্কার আছে, তার মধ্যে স্বাধীনতা পুরস্কারই সর্বোচ্চ পুরস্কার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাঁদের কৃতি সন্তানদেরকে বিভিন্ন নামের পুরস্কার দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে নোবেল পুরস্কার। বিশ্বের সেরা মানুষদেরকেই নোবেল পুরস্কার দেয়ার কথা। নির্বাচনি বোর্ড তাঁদের বিবেচনায় যাঁদেরকে যোগ্য বলে বিবেচনা করেন, তাঁরাই নোবেল পুরস্কার পেয়ে থাকেন। নোবেল পুরস্কার যাঁরা পেয়েছেন, কোন কোন ক্ষেত্রে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন যে কিছু ওঠে নি, এমন কথা বলা যাবে না।

আমাদের দেশে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তিত হয় ১৯৭৭ সালে। জেনারেল জিয়াউর রহমান তখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, গবেষণা সব মিলিয়ে মোটামুটি ১৩টি ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়ে থাকে। উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সমাজসেবা ইত্যাদি। ১৯৭৭ সাল থেকে শুরু করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত হিসেব করে দেখা গেছে ব্যক্তি হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন ২৮৩ জন, প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে মোট ২২টি প্রতিষ্ঠান।

স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান কমিটিতে যাঁরা থাকেন, তাঁদের মেধা, প্রজ্ঞা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবার তেমন সুযোগ নেই। তবে যে সরকার যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন, পুরস্কার নির্বাচনি কমিটি সেই সরকারের রাজনৈতিক দর্শন থেকে নিজেদেরকে পুরোপুরি মুক্ত রাখতে পেরেছেন তেমনটি মনে হয় না। প্রসঙ্গক্রমে কিছু উদাহরণ তুলে ধরা যেতে পারে।

১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন সর্বপ্রথম স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান শুরু করেন তখন দেখা যায়, পুরস্কারপ্রাপ্তদের ১০ জনের মধ্যে ১ নম্বরে রয়েছেন মরহুম মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (মরণোত্তর)। পুরস্কারের ক্ষেত্র দেখানো হয়েছে সমাজকল্যাণ। ৫ নম্বরে রয়েছেন জনাব মাহবুব আলম চাষী, ৭ নম্বরে রয়েছেন ডা. মো. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চিন্তা-চেতনার সাথে প্রথম স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের আদর্শিক মিল লক্ষ্য করবার মত।

১৯৮১ সালে জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্রপতি হবার পর ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যাঁরা স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন, জেনারেল এরশাদের চিন্তা-চেতনা এবং পছন্দের প্রতিফলন কোন কোন ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে জেনারেল জিয়ার তুলনায় জেনারেল এরশাদ স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের ব্যাপারে কিছুটা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পেরেছিলেন বলে মনে হয়। তাঁর সময়ে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা তুলনামূলকভাবে একটু ক্ষুদ্র হয়ে গেছে। ১৯৮৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকায় নাম রয়েছে মাত্র একজনের, তিনি মরহুম জেনারেল মোহাম্মদ আতাউলগনি ওসমানী (মরণোত্তর), পুরস্কারের ক্ষেত্র-সমাজসেবা। লক্ষ্য করবার বিষয়, জেনারেল জিয়া, জেনারেল এরশাদ, এমন কি খালেদা জিয়ার ১৯৯৫ সালের শাসনকাল পর্যন্ত স্বাধীনতা এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কাউকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয় নি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবার পর স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে কিছুটা মৌলিক পরিবর্তন আসে। ১৯৯৮ সালের তালিকায় দেখা যায় সর্বমোট ১০ জনের মধ্যে ৭ জনেরই স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তির ক্ষেত্র ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’। তাঁরা সবাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং ৩ নভেম্বরে শহিদ হয়েছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে যাঁরা স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেছেন তাঁদের মধ্যে সর্বমোট ১৮ জনেরই পুরস্কার প্রাপ্তির ক্ষেত্র ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’।

বেগম খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে পুরস্কার প্রদানে আওয়ামী লীগ সরকার প্রবর্তিত ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’ শাখাটিতে কোন রকম পরিবর্তন আনেন নি। বেগম খালেদা জিয়া সরকারের আমলে ২০০২ সালে ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’ শাখায় যাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়, তিনি এস এ বারী এ.টি (মরণোত্তর)। ২০০৩ সালে খালেদা জিয়ার শাসনকালেই বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়। ২০০৩ সালে দ্বিতীয় আর কাউকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয় নি। ২০০৩ সালের তালিকায় উল্লেখ আছে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (মরণোত্তর)’। তাঁকে পুরস্কার দেয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’ শাখায়। বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে চিহ্নিত করা এবং স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়ার পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কি কৌশল বা অভিপ্রায় ছিল তা বোধগম্য নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যাঁরা স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তির তালিকার দিকে তাকালে দেখা যায় ব্যক্তির চেয়ে সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোই সেখানে প্রাধান্য লাভ করেছে।
১৯৭৭ সাল থেকে শুরু করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে যাঁদেরকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়েছে, তাঁদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করবার কোন সুযোগ নেই। তবে পরিসংখ্যান নিয়ে দেখা গেছে, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষার ক্ষেত্রে যাঁরা স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে বামপন্থী শিক্ষাবিদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। আমাদের জানামতে বামপন্থী কতিপয় শিক্ষাবিদ-বুদ্ধিজীবী যাঁরা এক সময় আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বলতেন- ‘আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ’, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাধীনতা পুরস্কার পেতে তাঁদের কোন রকম অসুবিধা হয় নি। সমাজের প্রতিটি মানুষেরই একটা বিশ্বাসের জগৎ আছে। সে বিবেচনায় বামপন্থী শিক্ষাবিদ-বুদ্ধিজীবীদের একটা বিশ্বাসের জগৎ থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। তাঁদের সেই বিশ্বাসের জগৎ থেকে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে তাঁরা এক পাল্লায় তুলে ওজন করতেই পারেন। তবে এটি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মারাত্মক অপপ্রচার। আওয়ামী লীগ সরকার সেই অপপ্রচারকে প্রশ্রয় দেবে কেন?

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর সীমাহীন অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং আওয়ামীপন্থী শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীবৃন্দ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল মতিন চৌধুরী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাসের নাম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করতে পারি। প্রায় দীর্ঘ তিন বছর অন্যায়ভাবে তাঁদেরকে জেলখানায় বন্দি করে রাখা হয়। উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে মুক্ত হয়ে এসে আশির দশকের শুরতেই তাঁরা গঠন করেন ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’। প্রফেসর ড. আবদুল মতিন চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’র শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে পড়ে দেশে বিদেশে। বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর ইতিহাস বিকৃতির যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়, সেই ষড়যন্ত্র ঠেকাতে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’র মাধ্যমে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীগণ এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশে আওয়ামী ঘরানার বুদ্ধিজীবীদেরকে যুদ্ধ করতে হয়েছে দু’বার। ১৯৭১ সালে ৯ মাস এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একুশ বছর। অথচ তাঁদের এই অবদানের কোন মূল্যায়ন নেই। স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তির ব্যাপারে আওয়ামীপন্থী যে সমস্ত বুদ্ধিজীবী উপেক্ষিত হয়েছেন উদাহরণ হিসেবে তাঁদের কিছু নাম আমি এখানে তুলে ধরছি।

১. বিচারপতি কে এম সোবহান। বংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যেমন তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বঙ্গবন্ধু পরিষদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানের একজন আইন বিশেষজ্ঞ। আমার জানামতে তাঁর মত একজন কৃতি সন্তানকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয় নি।
২. প্রফেসর মযহারুল ইসলাম। ১৯৭১ সালে ভারতে গিয়ে ৯ মাস তিনি মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মযহারুল ইসলামকে তৎকালীন জিয়া সরকার তিন বছর কারারুদ্ধ করে রাখে। উচ্চ আদালতের মাধ্যমে জেলখানা থেকে মুক্ত হয়ে এসে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তিনি কলম হাতে যুদ্ধ করেছেন, ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম করেছেন, ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। তাঁর মত উচ্চমানের একজন ফোকলোর গবেষক বাংলাদেশে দ্বিতীয় কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয় নি।
৩. প্রফেসর মশাররফ হোসেন যিনি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অসাধারণ অবদান রেখেছেন। তাঁর মত অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশে খুব কমই আছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে বিদেশে বঙ্গবন্ধু পরিষদের শাখা-প্রশাখা গঠনের তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে তিনি কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তাঁর মত একজন বড় মাপের বুদ্ধিজীবীর ভাগ্যে আজও স্বাধীনতা পুরস্কার জোটে নি।
৪. ড. ওয়াজেদ মিয়া, যিনি পরমাণু বিজ্ঞানী হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতির অধিকারী। বাংলাদেশ যে আজ পরমাণু বিজ্ঞান গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে, এর পেছনে ড. ওয়াজেদ মিয়ার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘকাল তাঁকে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জামাতা হিসেবে প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে যে সংগ্রাম তিনি চালিয়ে গেছেন তার তুলনা হয় না। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই পরমাণু বিজ্ঞানীকে এখনও স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয় নি।
৫. প্রফেসর হবিবুর রহমান ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের খ্যাতনামা অধ্যাপক। হবিবুর রহমান সাহেব ছিলেন আন্তর্জাতিক মানের একজন গণিত বিশেষজ্ঞ। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী একজন দৃঢ়চেতা বুদ্ধিজীবী। বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, স্বাধীনতার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শহীদ প্রফেসর হবিবুর রহমান সাহেবের ভাগ্যে এখনও স্বাধীনতা পুরস্কার জোটে নি।
৬. ডা. এস. এ. মালেক যিনি বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা হোমিও চিকিৎসক। ১৯৭১ সালে ভারতে গিয়ে তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁকে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জেল থেকে মুক্ত হয়ে এসে তিনি প্রফেসর ড. আবদুল মতিন চৌধুরীর পাশে থেকে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে বাংলা-ইংরেজিতে তথ্য বহুল অনেক লেখালেখি করেছেন। এই কলমযোদ্ধা বুদ্ধিজীবীকে আজও স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয় নি।

সকলের কথা লিখতে গেলে তালিকা বেশ দীর্ঘ হয়ে যাবে। আমি যাঁদের কথা লিখলাম তাঁরা সবাই আওয়ামী ঘরানার নিষ্ঠাবান বুদ্ধিজীবী এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁরা সবাই আন্তর্জাতিক মানের খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ এবং বুদ্ধিজীবী। সে বিবেচনাতেও তাঁরা স্বাধীনতা পুরস্কার লাভের যোগ্যতা রাখেন।

শুধু ব্যক্তি নয়, স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানেরও নাম আছে যেমন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ বেতার, ব্র্যাক, সন্ধানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়েছে ২০১১ সালে। উচ্চ শিক্ষা এবং উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানও কম নয়। ২০১১ সালে যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়েছে, দীর্ঘ আট বছরের ব্যবধানেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্যে স্বাধীনতা পুরস্কার জুটলো না।

স্বাধীনতা পুরস্কার যাঁরা পাবেন, তাঁদেরকে যদি পুরস্কারের জন্য আবেদন করতে হয়, সেটি অত্যন্ত বিব্রতকর। নির্বাচনি বোর্ডে যাঁরা থাকবেন, তাঁদেরই দায়িত্ব হবে স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ার মত যোগ্য ব্যক্তিদেরকে খুঁজে বের করা। আমাদের এই ছোট দেশে যোগ্য ব্যক্তিদেরকে খুঁজে বের করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। প্রয়োজনবোধে স্বাধীনতা পুরস্কার বাছাই পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা বাঞ্ছনীয়।

লেখকঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের সাবেক উপাচার্য ।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top