সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ ইং, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২২ রমযান ১৪৪০ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

স্পোর্টস গ্যালারী ডেস্কঃ

 

জিতলেই ফাইনাল—এই সমীকরণ সামনে রেখে ডাবলিনের ম্যালাহাইডে নেমেছিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে সমীকরণটা সহজেই মিলিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের আগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা টাইগাররা। মোস্তাফিজুর রহমান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকারের হাফসেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৫ উইকেটের জয়।

আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে এই ‍ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই খেলবে বাংলাদেশ। শুক্রবার শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে ডাবলিনেই মুখোমুখি হবে দল দুটি। এর আগে অবশ্য রবিন রাউন্ড লিগের ফিরতি খেলায় বুধবার মাশরাফিরা নামবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

বোলারদের দাপটে বাংলাদেশের লক্ষ্য খুব একটা কঠিন ছিল না। ক্যারিবিয়ানদের ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে করা ২৪৭ রান কঠিন হতেও দেননি ব্যাটসম্যানরা। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সৌম্য টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করার পর মুশফিকের ফিফটিতে ১৬ বল আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপের পর আরেকটি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মাশরাফিরা। এখন পর্যন্ত কোনও ফাইনাল জিততে না পারার আক্ষেপ দূর করার জন্য আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে মোক্ষম জায়গা। বিশ্বকাপের আগে ট্রফি জিততে পারলে, সেটা ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরে যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়তে পারেননি মুশফিক। তবে ফাইনালে যাওয়ার পেছনে ব্যাট হাতে তার অবদানই সবচেয়ে বেশি। একটা সময় চাপে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে চমৎকার ব্যাটিংয়ে পথে ফিরিয়ে পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৩তম হাফসেঞ্চুরি। জয় থেকে মাত্র ৮ রান দূরে থাকতে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ফিরে যান ৬৩ রান করে। কেমার রোচের বলে ড্যারেন ব্রাভোর হাতে ধরা পড়ার আগে ৭৩ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় করেন তিনি দলীয় সর্বোচ্চ রান।

তার আউটের পর বাকি কাজটা সেরেছেন মাহমুদউল্লাহ। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথমবার ব্যাটিং নেমে ৩৪ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৩০ রানে নিশ্চিত করেছেন জয়। সাব্বির রহমান মাঠে নামলেও ব্যাট করার সুযোগ আর পেলেন কই! তিনি স্ট্রাইকে যাওয়ার আগেই তো জয় পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন অ্যাশলে নার্স। ১০ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে এই স্পিনারের শিকার ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন কেমার রোচ ও জেসন হোল্ডার।

ম্যাচসেরা মোস্তাফিজ

ব্যাটসম্যানরা আলো ছড়ালেও এই জয়ে তাদের কাজটা আগেই সহজ করে দিয়েছিলেন বোলাররা। ম্যাচসেরা হয়েছেন তাই এক বোলার। প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে না পারলেও ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জ্বলে ওঠা মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

হাফসেঞ্চুরি হলো না মিঠুনের

প্রথম ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ হয়নি মোহাম্মদ মিঠুনের। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে সুযোগটা এলো তার। বিশ্বকাপের আগে ‘প্রস্তুতি’র শুরুটাও এই ব্যাটসম্যানের হলো দুর্দান্ত। তবে হাফসেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারলেন না ইনিংসটা। ৪৩ রানে বোল্ড হয়ে গেছেন মিঠুন।

দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে পথে ফেরান তিনি মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে। হাফসেঞ্চুরির পথেও হাঁটছিলেন মিঠুন। কিন্তু হোল্ডারের চমৎকার বলটা তার ব্যাট ও প্যাডের মাঝখান দিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। ৫৩ বলের ইনিংসে ডানহাতি ব্যাটসম্যান ২ চারের সঙ্গে মেরেছেন ২ ছক্কা।

মুশফিক-মিঠুনের ব্যাটে প্রতিরোধ

দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন। সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকার একই ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অ্যাশলে নার্সের শিকার হয়ে। গুছিয়ে নেওয়া বাংলাদেশ তাতে হঠাৎই এলোমেলো হয়ে পড়ে।

সেই জায়গা থেকে প্রতিরোধ শুরু মুশফিক-মিঠুনের। তারা জুটির ‘ফিফটি’ও পূরণ করেছেন।

সাকিবের ধাক্কা না কাটতেই সৌম্যর বিদায়

সহজ ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন সাকিব আল হাসান। ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফিরে গেলেন সৌম্য সরকার। অ্যাশলে নার্সের শিকার দুজনই। ২১তম ওভারের তৃতীয় বলে সাকিবকে আউট করার পর ক্যারিবিয়ান স্পিনার পঞ্চম বলে আউট করেছেন সৌম্যকে।

শুরুটা দারুণ করেছিলেন আগের ম্যাচে হার না মানা হাফসেঞ্চুরির ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করা সাকিব। তবে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে ভালো শুরু করেও ইনিংস লম্বা করতে পারলেন না তিনি।

অ্যাশলে নার্সের বলে শর্ট কাভাবে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন সাকিব। ৩৫ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৯ রান করা বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের ক্যাচটি নিয়েছেন রোস্টন চেস।

তার আউটের পরপরই ফিরে গেছেন সৌম্য। টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। ৬৭ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় সাজানো সম্ভাবনাময় ইনিসটি শেষ হয় ৫৪ রানে। নার্সের বলে লেগ সাইডে ধরা পড়েন তিনি সুনিল অ্যামব্রিসের হাতে।

বাংলাদেশের হারানো ৩ উইকেটই পেয়েছেন নার্স। ডানহাতি এই স্পিনারের বলেই আউট হন তামিম ইকবাল।

সৌম্যর টানা দ্বিতীয় ফিফটি

ব্যাক টু ব্যাক হাফসেঞ্চুরি তুলে নিলেন সৌম্য সরকার। এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ফিফটি পূরণ করেছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৬৮ বলে খেলেছিলেন ৭৩ রানের ঝলমলে ইনিংস। বিশ্বকাপের আগের সিরিজে আবারও জ্বলে উঠে মাইলফলকটি স্পর্শ করেছেন তিনি। ৫৯ বলে সৌম্য পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম হাফসেঞ্চুরি।

দারুণ শুরুর পর তামিম বোল্ড

সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবালের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। তবে সতর্ক ব্যাটিং করেও শেষ রক্ষা হয়নি তামিমের। অ্যাশলে নার্সের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেছেন এই ওপেনার। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ২৩ বলে ৪ বাউন্ডারি করেন ২১ রান।

এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুরু থেকেই সৌম্য সরকার ছিলেন আক্রমণাত্মক। ডাবলিনে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচেও জ্বলে উঠেছে সৌম্যর ব্যাট। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দারুণ শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





Leave a Comment

You must be logged in to post a comment.

© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top