মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ ইং, ১১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী

You Are Here: Home » অন্যান্য » খালেদা জিয়ার মামলায় প্রভাব খাটানো হচ্ছে : রিজভী

খালেদা জিয়ার মামলায় প্রভাব খাটানো হচ্ছে : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা আশংকাজনক পর্যায়ে উপনীত হলেও সরকার তাকে মুক্তি দিচ্ছে না। অসত্য মামলাগুলোতে দেশনেত্রীর কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকার পরেও আইনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব খাটিয়ে বেআইনীভাবে জামিন আটকিয়ে রাখছে। এই অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিহিংসা, দাম্ভিকতা ও জিদের জন্য বেগম জিয়াকে জোর করে কারারুদ্ধ করে রেখেছেন। নিজের সর্বময় কর্তৃত্ব নিরাপদ করার জন্যই ক্ষমতাতপস্বী শেখ হাসিনা কারাবন্দী করে রেখেছেন বেগম জিয়াকে।

বুধবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এখন নতুন করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নিয়ে যাওয়ার যাবতীয় আয়োজন চালানো হচ্ছে চক্রান্তমূলকভাবে। কেরানীগঞ্জের মতো একটা উপজেলায় দেশনেত্রীর নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো পরিচালনার জন্য আদালত স্থাপন করা হয়েছে-যা সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থি। সংবিধানে একজন নাগরিককে যে মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে বেগম জিয়ার সেই অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে, যেকোনো বিচার হতে হবে উন্মুক্তভাবে।

কারাগারের একটি কক্ষে বিচার হতে পারে না। কেরানীগঞ্জ উপজেলায় কারাগারের মধ্যে আদালত নিয়ে যাওয়া সংবিধানবিরোধী। পাশাপাশি ফৌজদারী কার্যবিধিতে (সিআরপিসি) স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, কোথায় কোথায় আদালত স্থানান্তরিত হতে পারে। তাতে উল্লেখ নাই কারাগারে কোর্ট স্থাপিত হতে পারে। সেজন্য সরকারকে বলবো দ্রুত এইসব হঠকারী ও হিংসাত্মক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই মূহুর্তে মুক্তি দিন।

তিনি আরো বলেন, কৃষকরা মাঠের ধান ঘরে উঠাচ্ছেন না। মাঠেই ধান জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, পাকা ধানে মই দিচ্ছেন। কি মর্মান্তিক এই দৃশ্য । বাংলাদেশের সবচেয়ে সৃজনশীল মানুষ কৃষকরা বিরতিহীনভাবে ধান-আলু-পেঁয়াজ-রসুন-টমেটো-উৎপাদন করছেন।

কিন্তু ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ন্যায্য মূল্য দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই এই অবৈধ সরকারের নীতিতে নেই। কৃষক তার পাকা ধানের ক্ষেতে আগুন দেন, আর খাদ্যমন্ত্রী বলছেন, ‘এটা সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’। হিরক রাজ্যের মতো কৃষকরাও মন্ত্রীর চোখে ষড়যন্ত্রকারী। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘ধানের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও এই মুহূর্তে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে দাম বাড়ানোর তেমন সুযোগ নেই।’ মন্ত্রীদের এধরণের কথাবার্তা বাংলাদেশের মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। অর্থাৎ দুর্ভিক্ষ শুরু হলেও তাদের কথায় মন্ত্রীদের কিছু করার থাকবে না।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ধান কিনে ভর্তুকি দেওয়ার যে হিসাব সরকার করেছে, তা কৃষকের জন্যে নয়। ধান কেনার ভর্তুকির টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে মিল মালিকদের জন্যে। মিল মালিকরা ফড়িয়াদের দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ৪০০ বা ৫০০ টাকা মণ দরে ধান কিনে, সরকারি বিক্রয় কেন্দ্রে এনে তা ১,০৪০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছে। ফড়িয়া এবং মিল মালিকরা সরকারি দলের লোক। সুতরাং রাষ্ট্রের ভর্তুকির টাকা কৃষকের নামে খরচ হলেও, পাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

রিজভী বলেন, অর্থনীতিতে ধ্বস নেমেছে। রুপপুরে পারমানবিক প্রকল্পের মহাদুর্নীতি, এর আগে বড় পুকুরিয়া থেকে লাখ লাখ টন কয়লা উধাও, ‘বালিশ-কেটলী’ দুর্নীতিসহ নানা সেক্টরের দুর্নীতির সাগরচুরি এখন মহাসাগরচুরিতে পরিণত হয়েছে, এতে জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি হলেও দুদক চোখ-কান বন্ধ করে বোবা-কালার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। র‌্যাব-পুলিশের মতো দুদকও বিরোধী দল দমনে সরকারের একটি মারণাস্ত্র হিসেবে কাজ করছে। ক্ষমতাসীনরা সাধারণ জনগণের গচ্ছিত টাকাগুলো নিয়ে কেউ মালয়েশিয়া, আমেরিকা, কেউ কানাডা, কেউ সিঙ্গাপুর পাচার করছে। বেগম পল্লী, সেকেন্ড হোম তৈরী করছে। এদিকে দেশে কোটি কোটি যুবক বেকার এবং প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ জীবিকাচ্যুত হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের দ্বারা।সুতরাং এই সরকার অন্ধকার রাতে পুলিশ-র‌্যাব কর্তৃক সিলেক্টেড সরকার। তাই দেশজুড়ে দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রুপ ধারণ করেছে। আওয়ামী স্বেচ্ছাচারী শাসনে উদ্ভুত মহাদুর্নীতির প্রবল চাপে গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। অচিরেই জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে এদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো যাবে না।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top