মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ ইং, ১১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর্দা উঠবে আজ

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর্দা উঠবে আজ

স্পোর্টস গ্যালারী ডেস্কঃ

ওভালে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে লন্ডনে পর্দা উঠবে ২০১৯ বিশ্বকাপের। প্রতীক্ষা শেষে জমে উঠবে বিশ্বকাপের আসর। এবারের বিশ্বকাপে থাকতে বেশ কিছু নতুন চমক। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯২’র পর এবারই প্রথম রাউন্ড রবীন লিগ পদ্ধতিতে হবে ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর। যেই আসরে অংশ্রগ্রহণ করবে টাইগারাও। সেই লক্ষ্যে চলছে প্রস্তুতিও চলছে।

সব মিলিয়ে ৪৮টি ম্যাচ হবে ৪৬ দিনের টুর্নামেন্টে। ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর সময়সূচি প্রকাশ করেছে আইসিসি। ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ । দলগুলোও প্রস্তুত সেরা পারফারমেন্স দেয়ার জন্য ।

২০ বছর পর বিশ্বকাপ ফিরছে ক্রিকেটের আঁতুড়ঘরে। নিজেদের খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে অস্ট্রেলিয়া। পাঁচবার কাপ জিতে তারাই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল দলও বটে। প্রথমে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে গ্রুপ পর্যায়ে খেলা হবে। সেরা চারটি দল নিজেদের মধ্যে সেমি-ফাইনাল মুখোমুখি হবে। আর সেই দুই ম্যাচের বিজয়ীরা লর্ডসে মুকোমুখি হবে বিশ্বকাপ ফাইনালে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস মিলিয়ে মোট ১১ টি মাঠে মোট ৪৮ টি ম্যাচ খেলা হবে।
ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় এক নজরে দেখে নেওয়া যাক অংশগ্রহণকারী সবকটি দলকে। দেখে নেওয়া যাক, কাদের হাতেই বা ঘুরতে পারে খেলা
ভারত
ভারত বিরাট কোহলির নেতৃত্বে গত প্রায় দুই বছর ধরে ভারত বিশ্বের প্রায় সর্বত্র, সব দলের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে। সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সফরেও দারুণ ফল করেছে টিম ইন্ডিয়া। ঘরের দল ইংল্যান্ডের পাশাপাশি মেমন ইন ব্লুজ-কেই এইবারের বিশ্বকাপ জেতার প্রধান জাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছে। ভারতের পক্ষে খেলা ঘোরানোর লোক অনেক। ব্য়াটিং-এ একটি নাম বাছতে গেলে বিরাট কোহলি ছাড়া কারোর কথা বলার উপায় নেই। তবে এই বিশ্বকাপ মাতিয়ে দিতে পারেন চায়নাম্যান কুলদীপ। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, বিদেশী পরিবেশেও সমান বিষাক্ত তাঁর স্পিন।
অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সবমিলিয়ে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন। তবে বল বিতর্কের পর থেকে দলের ফর্ম খুব খারাপ। ২০১৮ সালে দুই সিরিজ মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফল ছিল ৯-১। তারপর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিরুদ্ধেও পরাজিত হয়েছে। বিশ্বকাপের জন্যই দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ৫ টি বিশ্বকাপ খেলা ও ৩ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রিকি পন্টিং। স্টিভ স্মিথ ও ওয়ার্নার বিশ্বকাপে দলে ফিরবেন। তারাই দলের ভাগ্য ফেরাতে পারেন।
ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ড ১৯৭৫ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে প্রতিবার এই প্রতিযোগিতায় খেলেও এখনও একবারও জিততে পারেনি ক্রিকেটের জন্ম দেওয়া দেশ ইংল্যান্ড। বেশ কয়েকবার ফাইনালে উঠেছে, শেষবার ১৯৯২ সালে। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে গত ৪ বছরে ইংল্যান্ড ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ক্রমতালিকায় ১ নম্বরে উঠে এসেছে। তার উপর দেশের মাটিতে খেলার সুবিধাও পাবে। দলে আছেন জো রুটের মতো ব্যাটসমন্য়ান। কিন্তু বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন উইকেটরক্ষক ব্য়াটসম্যান জস বাটলার। আসন্ন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ম্যাচ ঘোরানো পারফরম্য়ান্স আসতে পারে তার তরফ থেকেই।
দক্ষিণ আফ্রিকা
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সবচেয়ে হতভাগ্য দল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৯২ সালে এক অদ্ভুদ রেইন-রুল-এর শিকার হয়ে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল প্রোটিয়াদের। তারপর থেকে আরও ৩বার সেমিফাইনাল ও ২বার কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা দল অবশ্য মর্নি মর্কেল ও এবি ডিভিলিয়ার্সের অবসরের পর আগের মতো ধারাবাহিক নেই। ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকা অনেকটাই নির্ভর করবে ডেভিড মিলার-এর উপর। তবে এই বিশ্বকাপে তাদের হয়ে তারকা হয়ে উঠতে পারেন তরুণ জোরে বোলার লুঙ্গি এনগিদি। হাঁটুর চোট সারিয়ে ফিরে কিন্তু আগের ছন্দে বল করা শুরু করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ছোট দলের তকমা কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে কোয়ার্টারফাইনালে পৌঁছেছিল তারা। ইংল্যান্ডের মাঠে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০১৮ সালে ওডিআই-তে জযের নিরিখে তারা ছিল ইংল্যান্ড ও ভারতের পরেই। নিদের প্রথম বিশ্বকাপে নায়ক হয়ে উঠতে পারেন বাঁ-হাতি জোরে বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। ২০১৮ সালে আইসিসির সেরা ওডিআই দলে থাকা বোলারটি কিন্তু ইংরেজ পরিবেশে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন। বাংলাদেশ তাঁকে আইপিএল না খেলতে দিয়ে তাজা রাখছে।
ওয়েস্টইন্ডিজ
ওয়েস্টইন্ডিজ প্রথম দুই বিশ্বকাপ জয়ীদের এই বার যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলে বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হয়েছে। তাদের সাম্প্রতিক ফর্ম বোঝানোর জন্য এই তথ্যটুকুই যথেষ্ট। গত দুই বারের বিশ্বকাপে তারা কোয়ার্টারফাইনাল পর্ব পার করতে পারনি। ক্রিস গেইল বিশ্বকাপের পরই অবসর নেবেন। তিনি শেষ বার জ্বলে উঠতে পারেন। তবে এইবার কিন্তু ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের নয়া তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে ২২ বছরের শিমরন হেটমায়ারের। ভারত সফরেই তিনি সম্ভাবনা দেখিয়েছেন।
শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কা গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হেরে ছিটকে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তারপর থেকে ক্রমশ পড়েছে তাদের ক্রিকেট। এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও হেরেছে। ১৯৯৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা এই বিশ্বকাপে অন্তত বড় দল হিসেবে গন্য হবে না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এই বিশ্বকাপেও শ্রীলঙ্কার প্রধান শক্তি ৩৫ বছরের জোরে বোলার লাসিথ মালিঙ্গা।
নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ড ২০১৫ সালেই প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার বাধা টপকাতে পারেনি ম্যাকালামের দল। তার আগে আরও ৬ বার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। তাঁর জায়গায কেইন উইলিয়ামসন আসার পর, ভারত সিরিজ বাদ দিলে কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে বেশ ভাল খেলেছে কিউইরা। নিউজিল্যান্ড দলে অনেকেই ম্যাচ উইনার হয়ে উঠতে পারেন। অধিনায়ক উইলিয়ামসম, রস টেলর, জোরে বোলার লোকি ফার্গুসন। কিন্তু ভারত সিরিজে ট্রেন্ট বোল্ড যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতে বিশ্বকাপে কিউই দলের হয়ে তিনি একাই খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
পাকিস্তান
পাকিস্তান পাকিস্তান দল নিয়ে কোনও ভবিষ্যৎ-বাণী করা সম্ভব নয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই গ্রুপ লিগে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ফাইনালে সেই ভারতীয় দলকেই দারুণভাবে পরাজিত করেছিল। সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বে পাক দলে কিন্তু তরুণ প্রতিভার অভাব নেই। তরুণ পাক ব্যাটসম্যান বাবর আজমের তুলনা করা হয় বিরাট কোহলির সঙ্গে। ইতিমধ্যেই তিনি ৮টি শতরান করে ফেলেছেন। গড়-ও ৫১-এর উপরে। তিনিই পাক দলকে বিশ্বকাপে টানতে পারেন।
আফগানিস্তান
আফগানিস্তান ২০১৫ সালেই প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিল আফগানিস্তান। আর তার পরের ৪ বছরেই নিজেদের ক্রিকেটকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে তারা। এইবারও যোগ্যতা অর্জন পর্ব পেরিয়েই বিশ্বকাপ খেলার টিকিট অর্জন করতে হলেও তারা কী করতে পারে তার প্রমাণ মিলেছিল এশিয়া কাপে। তবে তাদের সাফল্য়ের মূল কারণ তাদের স্পিন আক্রমণ। ইংকেজ পরিবেশ ও পিচে তা কতটা কার্যকর হ.য় সেটাই দেখার। আফগান স্পিন আক্রমণের মূল ফলা রশিদ খান। একদিনের ক্রিকেটে দ্রুততম ১০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড ই তরুণ লেগ স্পিনারের ঝুলিতেই রয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায় তাঁর উইকেট শিকারের ক্ষমতা।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top