মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ ইং, ১১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত

যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত

নিউজ ডেস্ক:

 

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে বুধবার রাজধানীসহ সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পর দেশের মুসলিম সম্প্রদায় তাদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ধর্মপ্রাণ লাখো কোটি মানুষ ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা মাঠে আজ ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণস্থ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। দ্বিতীয় বৃহত্তর জামাত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল সাতটায়। এছাড়া সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আরো ৪টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুুল হামিদ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ, সংসদ সদস্যরা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পেরেশনের মেয়র, উর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতারা, সরকারি ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকরা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায় করেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন। ঈদের নামাজ শেষে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি, জনগণের কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঈদের নামাজ আদায়ের পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মুসল্লীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল ফিতরের জামাত। সেখানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ  নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি, মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা, হুইপরা, জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও এলাকার জনগণ ঈদের জামাতে শরীক হন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও জাতীয় অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি মুসল্লীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে মহানগরীর মোট ৪০৯টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র কার্যালয়ের কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, ডিএসসিসি’র ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে ৪টি করে এবং জাতীয় ঈদগাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠসহ মোট ২৩০টি স্থানে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা এসএম মামুন জানান, এই সিটি কর্পোরেশনের ৩৬টি ওয়ার্ডের মোট ১৭৯টি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় ঈদের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত হয় সকাল ৯টায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মেইন গেইট সংলগ্ন মাঠে ও শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় পৃথক দু’টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ‘সি’ ব্লকের মসজিদ বায়তুল ফালাহ কমপ্লেক্সে ঈদুল ফিতরের দু’টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি সকাল সাড়ে সাতটায় ও দ্বিতীয়টি সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টায়। দুই বছর আগে ঈদুল ফিতরে এ জামাতকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলা হওয়ার পরও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত। তাই এবার ঈদ জামাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবার ঈদুল ফিতরের জামাতে ইমামতি করেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদ।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ধর্মীয় বৃহত্তম এ উৎসব উপলক্ষে আজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার দেশের বাইরে ঈদ উদযাপন করছেন ।

ঈদ উপলক্ষে আজ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বনানী-ঢাকা গেট হতে বঙ্গভবন পর্যন্ত প্রধান সড়ক এবং সড়ক দ্বীপসমূহে জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ‘ঈদ মোবারক’ খচিত ব্যানার লাগানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সরকারি ভবনসমূহে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো ইতোমধ্যে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। ঈদ উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রীয়নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল শিশুপার্কে প্রবেশের ব্যবস্থা এবং বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয় কর্মসূচির আলোকে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করছে। বিভাগীয় শহরগুলোতে, যেমন- চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশালে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নসহ সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে যথাযথ মর্যাদায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। ঈদে ঢাকা মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরীতে র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে ৩ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে।সাথে আরও দুইদিন সরকারি ছুটি থাকায় শনিবার এ ছুটি শেষ হবে। -বাসস

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top