বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ ইং, ১২ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে টান টান উত্তেজনা

সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে টান টান উত্তেজনা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলন কেন্দ্র করে শহরে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। শনিবারের (১৫ জুন) এ সম্মেলন সফল করতে দফায় দফায় চলছে মোটরসাইকেল শোডাউন, মহড়া ও মিছিল। কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন উপলক্ষে শহরকে সাজানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টেগুলোতে প্রদর্শন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতার ছবি সংবলিত ব্যানার-তোরণ। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন সহিংসতা এড়াতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করেছে।

জেলা যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে, যুবলীগের এ সম্মেলন কেন্দ্র করে শহরের শহীদ এম মনসুর আলী মিলনায়তন বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম এবং যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য  চয়ন ইসলামসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলার সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

এক দশক পর অনুষ্ঠিতব্য সিরাজগঞ্জ জেলা যুবলীগের এই সম্মেলনকে ঘিরে তাই বিবদমান দু’টি গ্রুপের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন পর ডাকা সম্মেলনের নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন তা নিয়েই এই উত্তেজনা । জেলার প্রভাবশালী দুই নেতার দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যুবলীগের দু’টি পক্ষ কেউ কাউকে ছাড় না দেয়ার মানসিকতা থেকে এই উত্তেজনা, তাই দলের নেতাকর্মী ও শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক শীর্ষ নেতা বলেন, শহরের শহীদ এম মনসুর আলী মিলনায়তনে জেলা যুবলীগের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিরাজগঞ্জ -১ আসনের এমপি মোহাম্মদ নাসিম এবং সিরাজগঞ্জ সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ডাঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না্র গ্রুপের নেতাদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে এই উত্তেজনা বলে জানান।

যুবলীগ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গত ১০ জুন (সোমবার) বিকালে স্থানীয় আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে বিদায়ী জেলা যুবলীগ সভাপতি মঈনউদ্দিন চিনুর সভাপতিত্বে যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের পাভেল। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সভাপতি প্রার্থী দুজনের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে হাজির হয় আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে। এসময় উভয় পক্ষের সমর্থকরা নিজেদের মধ্য বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা যুবলীগে এতদিন নেতৃত্বে ছিল দলের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ নাসিমের।সেই প্রভাব খর্ব হতে শুরু করে দলের জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের পরপর দুইবার নির্বাচিত সাংসদ ডাঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না রাজনীতিতে জেলায় আগমনের পর। আগে মোহাম্মদ নাসিমের একক নেতৃত্বে চলতো জেলা আওয়ামীলীগসহ সকল সংগঠন ।জেলা আওয়ামীলীগে সেই আধিপাত্য এখন তাঁর নাই বললেই চলে ।সর্বশেষ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের পর থেকে মোঃ নাসিমের জেলার রাজনীতিতে প্রভাব কমে যায় । এখন বলা চলে জেলার রাজনীতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় ডাঃ মুন্না । প্রকাশ্যে জেলার সব সাংসদরা মুন্নার পক্ষে। তরুণ নেতা হিসেবে ও সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ইতিমধ্যে জেলায় ও জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন । দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ নাসিমের প্রভাব থেকে নিজের প্রভাব বলয়ে নিয়ে আসছেন জেলায় দলকে। জেলা আওয়ামীলীগের পুরানো অনেক নেতা এখন ডাঃ মুন্নার পক্ষে। প্রায় সব অঙ্গ সংগঠনে ডাঃ মুন্নার অনুসারী থাকলেও জেলা যুবলীগ তাঁর পক্ষে ছিল না । এবার জেলা যুবলীগকে এককভাবে পক্ষে নিতে মরিয়া মুন্না গ্রুপ, সেই লক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন তাঁর সমর্থকরা । জেলা যুবলীগের নেতৃত্ব নিতে শহর যুবলীগের আহ্বায়ক এমদাদুল হককে সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক একরামুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে সভাপতি পদে এমদাদুল হক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উপজেলায় গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। শহরে প্রভাবশালী ও পরিচ্ছন্ন ইমেজ থাকায় সভাপতি পদে এগিয়ে এমদাদ, জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা।যদিয় প্রতিপক্ষে তাঁকে নিয়ে প্রবল আপত্তি ।

সাবেক মন্ত্রী মোঃ নাসিম বলয়ে প্রথমে জেলা যুবলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম সভাপতি প্রার্থী থাকলেও হঠাৎ করে প্রার্থী বদল করে সিরাজগঞ্জ কলেজের সাবেক ভিপি রাশেদ ইউছুফ জূয়েল এখন এই গ্রুপের সভাপতি প্রার্থী । জুয়েল সম্পর্কে মোঃ নাসিমের ভাতিজা ও জেলা আওয়ামীলীগের   সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু ইউছুফ সূর্যের ছেলে। সাধারণ সম্পাদক পদে মুন্না গ্রুপের একরাম এবং নাসিম গ্রুপের লিমন ও সোহেল এই দুই জনের নাম শোনা যাচ্ছে।মুন্না সমর্থকরা এবার যুবলীগের দুই শীর্ষ পদই তাদের দখলে রাখতে মরিয়া। এজন্য শহরের তাঁর দুইজন ঘনিস্ট সমর্থককে জেলা যুবলীগের শীর্ষ পদে প্রার্থী করেছেন । অন্যদিকে, সভাপতি পদে কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ নাসিম সমর্থক রাশেদ ইউছুফ জূয়েল জোরালো প্রার্থী । উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ভোটে নেতৃত্ব চান । কেউ কেউ চান সমঝোতা । সমঝোতা হলে মুন্না গ্রুপ থেকে এমদাদ সভাপতি ও নাসিম গ্রুপ থেকে সে ক্ষেত্রে জুয়েল হতে পারেন সাধারণ সম্পাদক ।আবার জুয়েল সভাপতি হলে একরাম হতে পারেন সাধারণ সম্পাদক।কি পক্রিয়ায় নেতা নির্বাচন হবে তা কেন্দ্রীয় যুবলীগই নির্ধারণ করবেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পরে হতে যাওয়া সম্মেলনকে ঘিরে উত্তেজনা ও উৎসব দুইই বিরাজ করছে শহরে ।

সম্মেলনের বিষয়ে জেলা যুবলীগের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিমের সাথে কথা বললে সংশিদ গ্যালারীকে কনো রকমের গ্রুপিং নাই বলে জানান, তিনি জানান দুই সভাপতি প্রার্থী এমদাদ ও জুয়েলের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও বার বার পিছিয়ে যাওয়া সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





Leave a Comment

You must be logged in to post a comment.

© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top