বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯ ইং, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » রুশেমা এমপির মৃত্যুতে সংসদে শোক

রুশেমা এমপির মৃত্যুতে সংসদে শোক

সংসদ প্রতিবেদকঃ

 

আওয়ামী লীগ দলীয় সংরক্ষিত সংসদ সদস্য রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে শোকার্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার (রুশেমার) স্নেহমাখা কথাগুলো আমি ভুলতে পারি না। সংসদে তিনি যে বক্তৃতা করেছেন সেটা আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যারা মিথ্যাচার করছেন তাদের একটা উপযুক্ত জবাব, বেঈমান-মোনাফেকদের উপযুক্ত জবাব। তাই সংসদ সদস্যদের বলব তার বক্তৃতাটা সংগ্রহ করে পড়তে, শুনতে।

বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। তার আগে সংসদ নেতাসহ আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেন।

আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, শাহজাহান খান প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (রুশেমা) অত্যন্ত নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। একটা যুগে মেয়েদের শিক্ষা অত্যন্ত কঠিন ছিল। সেই যুগে তিনি লেখাপড়া করেন, প্রথমে মাদরাসায় শিক্ষাকতা করেন, এরপর তিনি ইশান মেমোরিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার স্বামী ওই স্কুলেই শিক্ষকতা করতেন। আমরা যখন যেতাম তার স্বামী পরিচয় করিয়ে দিতেন আমাদের প্রধান শিক্ষিকা এসে গেছে। আমি তার অধীনে চাকরি করি। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে একটা সমঝোতা চমৎকার পরিবেশ। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। খুব ধীরস্থির ভালো মনের মানুষ ছিলেন।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ১৯৮১ সালে আমি যখন দেশে ফিরে আসি। পরিবারের সকল সদস্যকে হারিয়ে সেই স্বজন হারানো বেদনা নিয়েই ফিরে এসেছিলাম। কিন্তু ‍আমি ভালোবাসা পেয়েছিলাম, স্নেহ পেয়েছিলাম তাদের কাছ থেকে যারা জাতির পিতার সাথে এক সাথে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, সারাদেশে যখন সফর করেছি আমরা সবসময় থাকতাম আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িতে। আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা পারিবারিক চমৎকার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবসময় নির্যাতিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি (রুশেমা) ও তার স্বামী সক্রিয় ছিলেন। সেখানে তাদের অবদান রয়েছে। কারো সংসারে যদি একজন জেলে যায় তখন তার সংসার চালানো এবং তার ছেলে-মেয়ে মানুষ করা সেটা যে কত দুরুহ একটা কাজ ছিল। সেটা তিনি করেছেন। ৬ দফা দেবার পর অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,তার স্বামী ইমাম উদ্দিন সাহেবকে খুব সক্রিয় পেয়েছিলাম। আসলে প্রকৃতপক্ষে তিনি (রুশেমা) কখনো কিছু চাননি, তিনি কোনদিন আমাকে বলেন নাই আমাকে এমপি করো বা কিছু করো, বরং নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আমি আর রেহেনা ৫ নম্বরে গিয়েছিলাম, তিনি তখন আসেন। ফরিদপুরের নির্বাচন সম্পর্কে কিছু কথা আলোচনা করার জন্য। যেহেতু তিনি প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন, অনেক ছাত্রী ছিল, তিনি সব ছাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, আমাদের পক্ষে যাতে ভোট আসে সেই ভোটের জন্য তিনি কাম্পেইন করতেন।

রুশেমা বেগম ৯ জুলাই ফরিদপুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া…রাজিউন)। তিনি ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ হতে সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হন।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





Leave a Comment

You must be logged in to post a comment.

© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top