রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ ইং, ৩ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ জিলহজ্জ ১৪৪০ হিজরী

You Are Here: Home » অফ সেশন » সংসদের লেকে ১০ হাজার পোনা ছাড়লেন স্পিকার

সংসদের লেকে ১০ হাজার পোনা ছাড়লেন স্পিকার

সংসদ প্রতিবেদকঃ

জাতীয় সংসদের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। ‘মৎস্য চাষে গড়ব দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে স্পিকার ড. শিরীর শারমিন চৌধুরী ১০ হাজার পোনা অবমুক্ত করেন।

সম্প্রতি সংসদ লেকের কাঁদামাটিসহ পানি শুকিয়ে নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়। নতুনভাবে লেক প্রস্তুত করার পর প্রথম মাছের পোনা ছাড়া হলো। ১৭ দশমিক ৯৮ একর আয়তনের এই লেকে মোট ৩০ হাজার পোনা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সোমবার শুধু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ১০ হাজার পোনা ছাড়া হয়। বাকি পোনা সংসদ ক্লাবের পক্ষ থেকে ছাড়া হবে।

সোমবার রুই, কাতলা, মৃগেল মাছের পোনা ছাড়া হয়। এর মধ্যে ১২ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার আকৃতির ৪ হাজার ২০০টি রুই মাছের পোনা, যার ওজন হবে ২৮০ কেজি। আর ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার আকৃতির ২ হাজার ৫০টি কাতলা মাছের পোনার ওজন হবে ২৫৫ কেজি। অন্যদিকে ১২ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার আকৃতির ৩ হাজার ৭৫০টি মৃগেল মাছের পোনার ওজন হবে ২৫০ কেজি।

সংসদ ভবন লেকের আয়তন ১৭ দশমিক ৯৮ একর। পানির গড় গভীরতা ভরা মৌসুমে থাকে ১৫ ফুট, বর্তমানে আছে ৮-৯ ফুট। গত ডিসেম্বর মাসে লেকটি সংস্কার করা হয়। সংস্কারকালে মৎস্য অধিদফতর কর্তৃক গঠিত কারিগরি কমিটি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে। মৎস্য খাত দেশের মোট জিডিপি’র ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপি’র ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ অবদান রাখছে।

স্পিকার বলেন, প্রতি বছরের মত এবারও সংসদের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। কিছুদিন লেক সংস্কার করার পর এখনকার পানি অত্যন্ত স্বচ্ছ, টলটলে। এখন মাছের পোনা অবমুক্ত করার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মৎস্য খাতের অবদান দিন দিন বেড়েই চলেছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণে মৎস্য সম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাছে ভাতে বাঙালির দৈনন্দিন জীবনে খাদ্য তালিকায় আমিষের ৬০ ভাগ যোগান দিচ্ছে মাছ। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত দেশীয় এ মাছ খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর।

‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বের পর মৎস্য খাতকেও অতি গুরুত্ব দিয়ে সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এটি সঠিকভাবে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ মৎস্য সম্পদ উৎপাদনে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করবে। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত পাঁচ বছরে জাতীয় মাছ ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে কুমিল্লার এক জনসভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন- মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ। এ কথা এখন সত্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণভবন লেকে পোনামাছ অবমুক্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সামাজিক আন্দোলনের শুভ সূচনা করেন। ১৯৭৩ সালে রাশিয়া সরকারের সহযোগিতায় সামুদ্রিক সম্পদের মজুদ নির্ণয়ে মৎস্য জরিপ কাজ সম্পন্ন করা হয়।

স্পিকার বলেন, গত পাঁচ বছরে মৎস্য উৎপাদনে সরকারের সাফল্যকে অর্থনীতিবিদরা প্রশংসা করছেন। বর্তমানে বিশ্বে মৎস্য সম্পদ উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ স্থানে রয়েছে। মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদনে আমরা তৃতীয় স্থানে রয়েছি। আগামীতে মিঠা পানির মৎস্য চাষে আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রথম স্থান অধিকার করার।

তিনি বলেন, চলতি অর্থ বছরে ৪১ দশমিক ৩৪ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালে মাছে বাংলাদেশ বিশ্বে এক নম্বর অবস্থানে যাবে। বর্তমানে শেখ হাসিনা সরকারের হাত ধরে মৎস্য খাতে উন্নয়নের যে বিপ্লব শুরু হয়েছে, তা আগামী পাঁচ বছর বজায় থাকলে এই খাত হয়ে উঠবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকা শক্তি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো বা ইপিবি থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মাছের মোট উৎপাদন ছিল ২৭.০১ লাখ টন, সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ তথা মৎস্যবান্ধব কার্যক্রম এবং চাষি-উদ্যোক্তা পর্যায়ে চাহিদামাফিক কারিগরি পরিষেবা প্রদানের ফলে ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৪.১০ লাখ টন। সর্বশেষ ২০১৬- ১৭ অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৪১ লাখ টন ছাড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এই খাত থেকে উৎপাদিত হয়েছে ৪২ লাখ টন।

মৎস্য খাতে প্রবৃদ্ধির এ ক্রমধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২০-২১ সালের মধ্যে দেশে মৎস্য উৎপাদন ৪৫ দশমিক ৫২ লাখ টন অর্জিত হবে বলে আশা করা যায়। ফলে ২০২০-২১ সনে দেশের বর্ধিত জনগোষ্ঠীর জন্য প্রক্ষেপিত মৎস্য চাহিদা (৪৫ দশমিক ২৮ লাখ টন) পূরণ করা সম্ভব হবে। গত ১০ বছরের মৎস্য উৎপাদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বেশ উৎসাহব্যঞ্জক (গড় প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ) এবং এক্ষেত্রে প্রায় স্থিতিশীলতা বিরাজমান।

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুর সভাপতিত্বে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম, রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, সাবেক প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ, সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ প্রমুখ।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top