রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ ইং, ৩ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ জিলহজ্জ ১৪৪০ হিজরী

You Are Here: Home » জাতীয় » আজ পবিত্র হজ্জ

আজ পবিত্র হজ্জ

সংসদ গ্যালারী প্রতিবেদকঃ

‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ানিন’মাতা লাকা ওয়াল্মুল্ক্, লা শারিকা লাকা।’ অর্থাৎ, ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি। নিশ্চয় সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার, তোমার কোনো শরিক নেই।’

এই ধ্বনিতে আজ মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।এভাবে তালবিয়া পাঠ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান (হাজি) আজ মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাঁরা আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত করবেন। মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আবদুল আজিজ আল শাইখ। হজের তিন ফরজের মধ্যে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আজ জোহরের নামাজের আগেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে হাজীরা সমবেত হবেন মক্কা থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই ময়দানে। প্রায় ১৪০০ বছর আগে এই ময়দানেই রাসূল সা: লক্ষাধিক সাহাবিকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। হাজীরা আজ এখানে অবস্থান করে মসজিদে নামিরাহ থেকে প্রদত্ত খুতবা শুনবেন এবং একসাথে জোহর ও আসরের নামাজ একই ইমামের পেছনে জোহরের ওয়াক্তে আদায় করবেন। সূর্যাস্তের পর ময়দান ত্যাগ করবেন।

‘হজ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ইচ্ছা করা’। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি হচ্ছে হজ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সৌদি আরব ও ১৮৯টি দেশের ৩৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে মুখরিত হতে থাকে মিনার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত।বাংলাদেশ থেকে এসেছেন এক লাখের উপর হাজি।

‘আরাফাহ’ এবং ‘আরাফাত’—এই দুটি শব্দই আরবিতে প্রচলিত। আরাফাতের ময়দানটি দুই মাইল দৈর্ঘ্য ও দুই মাইল প্রশস্ত এক বিশাল সমতল মাঠ। এর দক্ষিণ পাশে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড। এই রোডের দক্ষিণ পাশে আবেদি উপত্যকায় মক্কার উম্মুল কুরআ বিশ্ববিদ্যালয়। আরাফাতের উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরও এক হাজার মিটার বিস্তৃত।

হজের আহকাম পালনের লক্ষ্যে হাজিরা গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর মক্কা থেকে কেউ গাড়িতে, কেউ পায়ে হেঁটে মিনায় পৌঁছান। আরাফাতের ময়দানে যাওয়ার এক দিন আগে মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা সুন্নত। এই সুন্নত আদায় করতে হজের এক দিন আগে মিনায় যান হাজিরা। তারপর ৯ জিলহজ  ‘অকুকে আরাফাহ’ অর্থাৎ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন তাঁরা।

আজ আরাফাতের ময়দানে খুতবার পর জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন হাজিরা। তাঁরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে পাঁচ কিলোমিটার দূরের মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে অবস্থান করবেন খোলা মাঠে। শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে।

মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে (ন্যাড়া করে) গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরো কাপড় বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে ‘সাঈ’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। সেখান থেকে তাঁরা আবার মিনায় যাবেন। সেখানে আরও এক বা দুই দিন অবস্থান করে হজের অন্য আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করবেন। মিনার কাজ শেষে আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর যাঁরা মদিনায় যাননি, তাঁরা মদিনায় যাবেন। যাঁরা আগে মদিনায় গেছেন, তাঁরা নিজ নিজ দেশে ফিরবেন।

মিনায় জামারাতের (শয়তানের উদ্দেশে পাথর মারার স্থান) কাছে ও পুরো মিনায় আরবি, ইংরেজি, ফারসি, চীনা ও মালয় ভাষার পাশাপাশি বাংলায়ও নির্দেশনা দেওয়া আছে। হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ পুলিশ, আধা সামরিক ও সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। হাজিরা পথ হারিয়ে ফেললে স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট ও হজকর্মীরা তাঁদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন।
সৌদি হজ মন্ত্রণালয় ও মোয়াচ্ছাসা কার্যালয় সূত্র জানায়, মক্কা, মিনা ও আরাফাতের ময়দানে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সব হাজিকে বিনা মূল্যে খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান হাজিদের নানা উপহার দিচ্ছে।
জামারায় শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের পর হাজিদের পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিতে হয়। তাঁরা কাল কোরবানি দেবেন। অধিকাংশ হাজি নিজে বা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাই করার স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। কেউ কেউ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে (আইডিবি) ৪৫০ রিয়াল জমা দিয়ে কোরবানি দেন।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





Leave a Comment

You must be logged in to post a comment.

© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top