শনিবার, ৬ জুন ২০২০ ইং, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৫ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » যেভাবে মুস্তাফিজ-তাসকিনকে জাতীয় দলে নিয়েছিলেন সুজন

যেভাবে মুস্তাফিজ-তাসকিনকে জাতীয় দলে নিয়েছিলেন সুজন

স্পোর্টস গ্যালারী প্রতিবেদক :

খালেদ মাহমুদ সুজন মাঠের মানুষ। যেখানে ক্রিকেট সেখানেই তিনি। খেলোয়াড়ী জীবনে খেলেছেন প্রচুর খ্যাপ। নিজেই জানালেন,‘নোয়াখালী ও ফেনী বাদে পুরো বাংলাদেশে আমি খ্যাপ খেলেছি।’

খ্যাপ খেলার সুবাদে বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন ক্রিকেটারের সঙ্গে তাঁর উঠা-বসা হয়েছে। খেলা ছাড়ার পর কোচ হিসেবে যুক্ত হয়ে মাঠেই ছিলেন তিনি। প্রচুর খেলোয়াড় নিজ হাতে তৈরী করেছেন। বিভিন্ন খেলোয়াড়কে দল পাইয়ে দিয়েছেন। সব সময় ক্রিকেটারদের পাশেই ছিলেন তিনি। বিসিবিতে যুক্ত হয়ে ক্রিকেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গেম ডেভেলাপমেন্ট কমিটিতে থাকায় ক্রিকেটেই এখন তাঁর উঠা-বসা। ক্রিকেট নিয়েই দিন-রাত কাটিয়ে দেওয়া এ মানুষটিই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছেন সময়ের সেরা দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদকে। দুই পেসারের পথ চলা শুরু সুজনের হাত ধরে।রোববার রাতে তামিম ইকবালের লাইভ আড্ডায় যোগ দিয়ে সুজন সেই গল্প শোনান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন দুই অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দূর্জয় ও হাবিবুল বাশার সুমন।

সুজন বলেন,‘বিসিবির গেম ডেভেলাপম্যান্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আমি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলা সব সময় দেখতাম। কোনো একটা টুর্নামেন্টের জন্য দুবাই ও শারজাহতে গেলাম। ক্যাম্পে মুস্তাফিজকে দেখি। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনুশীলনে দেখেছি। অনুশীলনে একজন বোলারকে যতটা বিচার করা যায় ম্যাচে তার থেকে বেশি করা যায়। ম্যাচে দেখলাম,ও জোরে বল করে। আবার স্লোয়ার ও কাটারটাও মারছে।’

‘ঢাকায় আসার পর বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে যুক্ত হলাম। ওই সময়ের কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহে আমাকে জিজ্ঞেস করলো কোনো বাঁহাতি পেসার আছে কিনা? আমি দুজন ছেলের কথা বললাম। একজন আবু হায়দার রনি, আরেকজন মুস্তাফিজ। আমার কাছে দুজনের বিশেষত্ব জানতে চাইল। বললাম, আবু হায়দার সুইং বোলার। মুস্তাফিজ জোরে বল করে। কাটার আছে। ও (হাথুরুসিংহে) আমাকে আবার বলল, কি রকম কাটার? আমি বললাম, খুবই কার্যকরী। ও আমাকে বলল, কালকে তাহলে ছেলেটাকে আমাকে দেখাও।’

‘তখন মুস্তাফিজ সাতক্ষীরায় ছিল। আমি ওকে সকালে ফোন দিয়ে বললাম, তাড়াতাড়ি ঢাকায় আয়। মুস্তাফিজ আসল। পরদিন নেটে বোলিং করল। চান্দিকা আমার কাছে এসে বলে,‘‘ও পাকিস্তানের সাথে টি-টোয়েন্টি খেলবে।’’ আমি নিশ্চিত হবার জন্য আবার জিজ্ঞেস করলাম। ও নিজেও বললো,‘হ্যাঁ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলবে।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল মুস্তাফিজের। নিজের প্রথম ম্যাচে পেয়েছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ ও শহীদ আফ্রিদির উইকেট।

তাসকিনের বিষয়ে সুজন বলেন,‘তাসকিন আমাদের চিটাগং কিংসের (বিপিএল প্রথম আসর) নেট বোলার ছিল। নেটে দেখার পর ওকে যখন আমি নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করি তখন দলের সবাই বলে, আমি কি পাগল নাকি যে আমি তাসকিনকে খেলাতে চাই। নাসু ভাই (নাসির আহমেদ, কম্পিউটার অ্যানালিস্ট) আমাকে বলেছিল, সুজন ওকে খেলানোর কারণ কি? আমি সবাইকে বলেছিলাম, আমাকে খেলাতে দেন। একটা ছেলে তো চার ওভারই বোলিং করবে! এরপর তাসকিনকে খেলাই এবং ওই ম্যাচেই চার উইকেট পায়।’ বিপিএলে তাসকিন নিজের অভিষেক রাঙিয়েছিলেন ৪ উইকেট নিয়ে। প্রথম ম্যাচেই পেয়েছিলেন তিলকারত্নে দিলশান, ওয়াইজ শাহ ও স্টিভেন্সের মতো উইকেট।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top