রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ ইং, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » সিনেমা হলে আপাততঃ ছবি দেখার দিন কি শেষ!

সিনেমা হলে আপাততঃ ছবি দেখার দিন কি শেষ!

বিনোদন গ্যালারী ডেস্কঃ

করোনাভাইরাসের কারণে ১৮ মার্চ থেকে সারা দেশজুড়ে চালু থাকা নিয়মিত এমন প্রায় ৮০টির মতো সিনেমাহল বন্ধ হয়ে আছে। আড়াই মাস অতিক্রম করলেও করোনা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বরং দিনে দিনে অবনতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কেউ বলতে পারছেন না, সিনেমা হলের ভবিষ্যত কী?

আদৌ কি সিনেমা হলে বসে দর্শকরা সিনেমা দেখতে পারবে বা নতুন ছবিই বা আবার কবে তৈরী করা শুরু হবে। সিনেমা হলে বসে ছবি দেখার দিন কি তাহলে শেষ! নাকি শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে হলগুলো আবার চালু হবে।

করোনার কারণে সব সেক্টরই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে আছে দেশের চলচ্চিত্র ও সিনেমা হল। সবকিছু যদি স্বাভাবিক হয় তারপরেও চলচ্চিত্রাঙ্গন স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে কয়েকবছর!

যদি সিনেমাহল বাঁচাতে সরকার প্রণোদনা না দেন তাহলে দেশের অধিকাংশ সিনেমাহলই হয়তো ভবিষ্যতে আর খুলবে না!

সিনেমা হলে নাজুক পরিবেশ, মান সম্মত কন্টেন্টের অভাব, সময় উপযোগী সিনেমা নির্মাণে অক্ষমতা, স্যাটেলাইট ও অনলাইন প্লাটফর্মের আধিক্য- এরকম আরো অসংখ্য কারণে হলবিমুখ দর্শক। করোনার আগে স্বাভাবিক অবস্থাতেও চলচ্চিত্রে খুব একটা জৌলুস ছিলো না। বরং মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে এসেছে করোনাভাইরাস।

এ বিষয়ে আলাপ করলে সংশ্লিষ্ট একজন বলেন,সিনেমা ব্যবসা হতো শুধু ঈদের সময়। পাশাপাশি দুএকটা ভালো সিনেমা এলে সবাই একটু স্বস্তি পেত। কিছু কিছু বন্ধ সিনেমাহলও খুলতো। ১৮ মার্চ থেকে করোনার কারণে সিনেমাহল ও সিনেমা অঙ্গনে যে ক্ষতি চলমান তা পুষিয়ে নেয়া অত্যন্ত কঠিন হবে  হল টিকিয়ে রাখতে যদি সরকার প্রণোদনা না দেন তাহলে বন্ধ থাকা অধিকাংশ সিনেমাহল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আর খুলবে না।

এ বিষয়ে শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা বলেন, সরকারকে ১০০ সিনেমা হল রেনোভেশন করতে হবে। এই ১০০ হল থেকে আগামী ৩ বছর কোনো কর নেয়া যাবেনা। এখানে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। এছাড়া নতুন নতুন মার্কেট হলে সেখানে মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণ করতে হবে। সিঙ্গেল স্ক্রিনকেও সম্মান দিতে হবে। কারণ মাল্টিপ্লেক্সে ৩০০ টাকা দিয়ে আমজনতা সিনেমা দেখবে না। তাদের জন্য টিকেট মূল্য ১০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে। এসব পদক্ষেপ না নিলে করোনার পর সিনেমা ও সিনেমা হল শেষ হয়ে যাবে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের জনপ্রিয় এক চিত্রনায়ক বলেন, করোনায় সিনেমার যে ক্ষতি হল তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অধিকাংশই এখন না বুঝলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টের পাবে সিনেমায় কতটা ধ্বংস হয়েছে। তার মতে, সিনেমায় যারা মাঝেমধ্যে লগ্নি করতো তারা অন্য পেশার মানুষ। তারাও করোনার কারণে তাদের ব্যবসায় লোকসান গুনছে। এছাড়া কাজ না পেয়ে সিনেমা সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ মানুষই পেশা পরিবর্তন করবে।

রাজধানীর একটি সিনেমা হলের ম্যানেজার এ প্রসঙ্গে  বলেন, সারাবছর টিকেট থেকে সরকারকে রাজস্ব দিয়েছে সিনেমা হল। এখন সিনেমার দুর্দিনে আমরা সরকারি প্রণোদনা চাই। নইলে এই শিল্প ধ্বংস হবে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় কর্মচারিদের বেতন, বিদ্যুৎ, পানিসহ আনুষাঙ্গিক অনেক বকেয়া। সরকার প্রণোদনা না দিলে মালিকদের এই ক্ষতি কাটানো অসম্ভব। বাধ্য হয়ে অনেকে হল বন্ধ থাকবে।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top