বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ ইং, ৩১ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

You Are Here: Home » এক্সক্লুসিভ » সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতকে নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল লেখার সত্যতা নাই

সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতকে নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল লেখার সত্যতা নাই

বিশেষ প্রতিবেদক:

বিশিষ্ট সাংবাদিক ফজলুল বারী সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও তাঁর ছেলে শাহেদকে নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক গল্পের ছলে ফেসবুকে তাঁর বাড়ি নিয়ে যে লেখা লিখছে তার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। কারণ তাঁর ধানমন্ডিতে কোন বাড়িই নাই। বৃহত্তর সিলেটের সন্তান অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী কি উদ্দেশ্যে সত্য মিথ্যার আবরণে এই গল্প ফেসবুকে পোস্ট করলেন তা জানা না গেলেও সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধের লোকজন এই লেখা লুফে নিয়ে ফেসবুক ভাইরাল করে ফেলেছে। সরকার সমর্থক কিছু লোকজনও এ থেকে বাদ যাচ্ছে না। ফজলুল বারীর এই পোস্টটি এ পর্যন্ত ৩০৪ জন লোক শেয়ার করেছে ১২০০এর বেশি মানুষ লাইক দিয়েছে। ২৫০ জন মানুষ খুবই সমলোচনা করে কমেন্ট করেছে। ফজলুল বারীর কোন পোস্টে সচারচর তা হয় না। ২৪ জুন রাত বারোটায় এই পোস্ট দেন তিনি।

স্ট্যাটাস সম্পর্কে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন,ফজলুল বারী নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে সাবেক অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে গুজব ছড়িয়েছেন। অপপ্রচার রটিয়ে বলা হচ্ছে, সাবেক এই মন্ত্রীকে তার নিজের বাড়িতে উঠতে দিতে চাইছেন না ছেলে শাহেদ মুহিত। যা পুরোপুরি গুজব ও মিথ্যাচার । এসব গুজবে কান না দেয়ার জন্য দেশবাসীকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি ।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পরিবার নিয়ে ছড়ানো গুজবের বিষয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রীর ধানমন্ডিতে কোনও বাড়ি নেই। তিনি কখনো ধানমন্ডিতে ছিলেনও না। তিনি বর্তমানে তার ছেলে ও পুত্রবধূসহ পুরো পরিবার নিয়ে রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে থাকেন। এর আগে তিনি গুলশান-২ নম্বরে বসবাস করতেন। পরিবারের সবার সঙ্গেও দারুণ হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক সাবেক এই মন্ত্রীর। মুহিত সাহেবের সাথে আমার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। আমি নিজেই সাবেক অর্থমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে, তাদের পরিবারের এই ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। সাবেক একজন স্বনামধন্য অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে এমন অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন এব্যাপারে বলেন, তার ছেলে শাহেদ শিক্ষিত সজ্জন, নিজেও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। তাঁর বাবাকে এ বাড়িতে উঠতে না দেয়ার প্রশ্নই আসে না, দখল তো পরের কথা। আর পিতার অবর্তমানে এই সম্পদের মালিক তো তাঁর এই ছেলেই। তাছাড়া ধানমন্ডিতে তো তাঁদের বাড়িই নেই। তাঁরা তো দু ভাই বোন, দুজনই প্রতিষ্ঠিত। সাবেক অর্থমন্ত্রীর তো আরো অর্থকড়ি সম্পদ আছে সেগুলোও তো তাঁর ছেলেমেয়েরাই পাবে ভবিষ্যতে। কি উদ্দেশ্য নিয়ে ফজলুল বারী সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গল্প ফেঁদে এমন একজন সাবেক মন্ত্রী, ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, সজ্জন, শিক্ষিত, প্রবীণ সম্মানিত মানুষকে ও তাঁর সন্তান ও পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করলেন তা বোধগম্য নয়।

ফজলুল বারীর লেখার চুম্বক অংশ নিচে দেয়া হলো, লেখার শেষে যেখানে তিনি কর্পোরেট বাবা দিবসের রচনা বলে উল্লেখ করেছেন।

“সরকারের সাবেক একজন মন্ত্রী। এক সময় বিদেশে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোন করাপশনের অভিযোগ নেই। পড়াশুনা করা লোক। লেখালেখিও করেন। জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংস্থার পদে ছিলেন বিদেশে। তখন শেষ জীবনে থাকার জন্যে ঢাকার বনানীতে একটা বাড়ি কেনেন।
ওপরে নীচে দশ বারোটি রূম। অনেক দিন ধরে বাড়িটি নিজের মতো করে সাজাচ্ছিলেন। বিদেশে থাকা স্বত্ত্বেও বাড়িটি কখনও তিনি ভাড়া দেননি। যখন মন্ত্রী হলেন তখন থাকতেন সরকারি বাংলোয়।
ওই সময় বাড়িটায় থাকতেন তাঁর ছেলে শাহেদ। কিন্তু সরকারি ক্ষমতার বাইরে যাওয়ায় পর এই সাবেক দাপুটে মন্ত্রী পড়লেন ভিন্ন এক সমস্যায়। যে সমস্যা তিনি বাইরে কারও সঙ্গে শেয়ার করতেও পারেননা।
কারন সমস্যা তাঁর ছেলে শাহেদ। বাবা মন্ত্রী থাকতে বাবা’র নাম ভাঙ্গিয়ে নানাকিছু করেছে। কিন্তু এখন বাবার মন্ত্রিত্ব নাই দেখে সে বাবাকে অচ্ছুত ক্ষমতাহীন ভাবতেও শুরু করে দেয়! বাবাকে তাঁর নিজের বাড়িতে উঠতে দিতে চায় না।
তার বক্তব্য, দশ বছর ধরে বাড়িটায় ফ্যামিলি নিয়ে থাকতে থাকতে সে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কাজেই বাবা-মা তথা বুড়োবুড়ির এখন আর এ বাড়িতে আসার দরকার নেই! দরকার হলে সে বাবাকে অন্য কোথাও বাড়ি ভাড়া করে দেবে।
আলীশান বাড়ি হবে সেটি। বাবা-মা’কে দেখাশুনা রান্না করে খাওয়ানোর জন্যে রেখে দেবে দু’জন কাজের লোক। এরপরও বুড়ো-বুড়ি যাতে এ বাড়ির দিকে না আসেন। এ নিয়ে মানসিক

(ইহা একটি কর্পোরেট বাবা দিবসের রচনা। ঘটনা ২০১৯ সালের। তাহারা অত:পর দৃশ্যত সুখে শান্তিতে বসবাস করিতেছে। গত বাবা দিবসে সেই বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানও হইয়াছে)””।

 

এই স্ট্যাটাসের বিপক্ষে কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার তার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সারোয়ার প্রধানমন্ত্রীর ও সাবেক অর্থমন্ত্রীর খুব ঘনিষ্ঠ জন এবং সিলেটের সন্তান।

তিনি স্ট্যাটাসে যা বলেন,

আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত সাহেব উনার ছেলে শাহেদ সহ নিজের বাড়ি (ধানমন্ডী নয়) বনানীতেই থাকেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাহা লিখা হচ্ছে তাহা সত্য নয় এবং কেউ উনাকে বাসায় উঠিয়ে দিতে ও হয় নাই, এসব কাহিনী কি ভাবে যে মানুষ লিখে! আমি জানি যে ছেলে শাহেদ চেয়েছিলেন ডেভেলপার দিয়ে বিল্ড করতে এবং পিতা মুহিত সাহেব চেয়েছেন মৃত্যু পর্যন্ত এভাবেই থাকতে। এটা বৎসর খানিক আগের ঘঠনা, এর বেশী মোটেও কিছু নয়। এটা সম্পুর্ন পারিবারিক বিষয়। এত লিখা লিখির কি হতে পারে। কাজেই আমি সবাইকে অনুরোধ করবো আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাহা লিখেছেন তাহা ডিলিট করুন। সম্মানি মানুষকে এভাবে হেও করা ঠিক না, প্রতিটা পরিবারেই অনেক বিষয় থেকে থাকে। ধন্যবাদ সবাইকে।

এ ব্যাপারে সাবেক একজন সংসদ বলে, ফজলুল বারী একজন বড় সাংবাদিক, এই সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী, সিলেটের মানুষ। মুহিত সাহেবের মত এমন একজন সম্মানিত মানুষকে ও তাঁর সন্তান পরিবারকে হেয় করতে কাকে খুশি করতে এই কাজ করলেন তা বোধগম্য নয়। যে ব্যক্তি এমপি মন্ত্রীর পদের লোভ না করে ছেড়ে দেয়, সজ্জন মানুষ হিসেবে যার খ্যাতি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে এই জীবন সায়েন্যে এভাবে হেয় করার কোন মানে খুঁজে পাচ্ছি না।

 

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top