শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০ ইং, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ রবিউস-সানি ১৪৪২ হিজরী

You Are Here: Home » জিরো আওয়ার » আসন ভিত্তিক আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করা দরকার

আসন ভিত্তিক আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করা দরকার

মোঃ আসাদ উল্লাহ তুষারঃ

দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সারাদেশেই তৃনমূল পর্যায়ে কমিটি আছে । তারা মোটামুটি সক্রিয়ও বলা চলে। আওয়ামীলীগের বারো মাসই নানা ধরণের দলীয় প্রোগ্রাম থাকে। রুটিন এসব প্রোগ্রাম অনেক জায়গায় পালিত হয় আবার অনেক জায়গায় হয় না। সাংগঠনিক গতিশীলতার উপর এসব কার্যক্রম নির্ভর করে। আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি যেমন সব সময় সব বিষয়ে সরব থাকে তেমনটি দেখা যায় না তৃনমূলে। এর অবশ্য কারণও আছে, আছে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও স্থানীয় নেতৃত্বের কোন্দল । স্থানীয় নেতৃত্বের কোন্দলটা এখন চরম আকারে। বিশেষ করে দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারনে পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ্ব যেমন আছে, তেমনই ত্যাগী ও সুবিধাবাদীদের দ্বন্দ্বটাই আসল। অনেক জায়গায়ই উড়ে এসে জুড়ে বসাদের রাজত্ব চলছে।

তাছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই দুর্বল। দীর্ঘদিন দল ক্ষমতার থাকার কারনে এসব এলাকার দলীয় সাংগঠনিক দুর্বলতা তেমন চোখে পড়ছে না। বিশেষ করে সংসদীয় আসন ভিত্তিক অনেক এলাকা আছে যেসব জায়গায় বিএনপি জামাতের শক্ত অবস্থান। তৃনমূলের ওইসব এলাকার স্থানীয় নেতারা এসব দুর্বলতার কথা জানে। কিছু কিছু এলাকায় বিএনপি জামাত বা অন্যদল থেকে এসে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে ঐ জায়গার প্রকৃত আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের দুরে ঠেলে দিয়ে দলীয় আদর্শ বিবর্জিত ঐ সব হাইব্রিড নেতারা দলের পদ দখল করে নানা কুকর্ম করে দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে । ঐ সব নেতারা দলের বোঝা হিসেবে থাকছে, তারা দলের বদনাম করছে। তাদের কারনে দল ক্ষতিগ্রস্থ ও দুর্বল হচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন মাঠ-পর্যায়ের কর্মসূচি স্থগিত ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। এবার পরিস্থিতি-সময় বিবেচনায় সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করার দিকে নজর দিচ্ছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো তৃণমূলের বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন প্রস্তুতিসহ সার্বিক বিষয় নজরদারি করবে। দেবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও। থাকবে দলীয় কোন্দল মিটিয়ে দলকে গতিশীল করার নির্দেশনা । সব ইউনিটেই স্বচ্ছ নেতৃত্ব আনতে কাজ করছে দলটি ।

অনেক জেলা উপজেলায় দীর্ঘদিন সম্মেলন হয়নি। এই কারণে গতিহীন হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর তৃণমূলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। এসব অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও তুঙ্গে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হওয়ার আগে ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৩২ জেলার সম্মেলন শেষ করতে পেরেছে দলটি। ওইসব জেলায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত অনেক জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেননি স্থানীয় নেতারা। এখন অবশ্য অনেক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা পড়ছে কেন্দ্রে, যা যাচাই বাছাই করে ছাড়া হবে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। একইসঙ্গে জেলা সম্মেলনের আগেই ওইসব ইউনিটের সম্মেলন করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘তৃণমূল পর্যন্ত দলকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে যে সব জেলা ও মহানগর সম্মেলন হয়নি, সেখানে কমিটি গঠন হবে। তবে, তার আগে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সম্মেলনের কাজ শেষ করতে হবে। বিভাগভিত্তিক কমিটি গঠিত হয়েছে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ছাড়াও এসব বিভিন্ন বিভাগীয় কমিটিতে আছেন ্স্ব স্ব বিভাগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বৃন্দ। এসব কমিটি তৃণমূলের বিভিন্ন জেলা সফর থেকে শুরু করে বিদ্যমান কোন্দল নিরসন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে যেসব জেলা-মহানগরে সম্মেলন হয়নি, সেগুলো দ্রুত সম্মেলনের ব্যবস্থা করবে।

বিগত ৩ অক্টোবর দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে করেছে আওয়ামী লীগ। করোনার কারণে দীর্ঘদিন পর এই বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বিভাগভিত্তিক কমিটি গঠনসহ তৃণূমূলের সাংগঠনিক বিষয়সহ দলকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। টানা ক্ষমতায় থাকার কারনে এতদিন সাংগঠনিক বিষয়ে অনেক শিথিলতা দেখালেও এবার দলকে শক্তিশালী করতে নানবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করছে আওয়ামীলীগ।

এখনও দেশের অনেক জায়গায় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক অবস্থা খারাপ। দল ক্ষমতায় থাকার কারনে ও ব্যাক্তিবিশেষের নানা অন্যায় অত্যাচারের কারনে ও বিশেষ করে দীর্ঘদিন বিএনপি- জামায়াত প্রভাবিত অনেক সংসদীয় আসনে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক। ক্ষমতায় থাকার কারনে হয়তো এখন এসব বুঝা যাচ্ছে না। সেইসব এলাকা চিহ্নিত করে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করা উচিত । স্থানীয় নেতৃত্ব না পারলে সেখানে কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় নেতাদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধি করা দরকার। ইউনিয়নওয়ারী দুর্বলতা চিহ্নিত করে দলের শক্তি বৃদ্ধি করা দরকার। সরকার অনেক ধরণের সামাজিক সুরক্ষামুলক সেবা মানুষের দৌড়গড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়াও নানা ধরণের উন্নয়নমূলক কাজ একেবারে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এসব প্রচার প্রচারণা করে মানুষকে আওয়ামীলীগ মুখী করতে হবে ।

সারাদেশেই বিএনপি – জামাতের কিছু অঞ্চল বা আসন আছে যেগুলোর সাংগাঠনিক অবস্থা খুবই মজবুত। এখনই সেগুলো গ্রুত্বসহ চিহ্নিত করে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে । বিশেষ করে দিনাজপুরের খানসামা – চিড়িরবন্দর, নীলফামারীর জলঢাকা, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, বগুড়ার সদর- গাবতলি- শাজাহানপুর, জয়পুরহাট, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা, সাতক্ষিরা জেলা, নোয়াখালী, লক্ষিপুর, চট্রগ্রামের, লোহাগড়া – বাশখালি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া সহ দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপি জামাতের ভোটের অবস্থানে খুবই শক্তিশালী । এসব এলাকার স্থানীয় এমপি বা এমপি প্রার্থীদের সাথে নিয়েই কেন্দ্রের তত্বাবধানে সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে কাজ করা দরকার। বিশেষ করে ওইসব এলাকার সাধারণ মানুষকে আওয়ামীলীগের পতাকাতলে নিয়ে আসা দরকার। বিএনপির কার্যক্রম যাইথাক সাধারণ মানুষের কাছে দলটির এমনি এমনি কিছু জনপ্রিয়তার কথা অস্বীকার করার উপায় নাই । একইভাবে জামাতকে সাধারণ অবস্থায় কোণঠাসা মনে হলেও নীরবে তাদের সাংগঠনিক কাজ বিভিন্ন কৌশলে জোরেশোরে করে যাচ্ছে। যা সময়মতো দৃশ্যমান হবে । এসব অনেক এলাকায় সরকারের জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার করে প্রয়োজনে মানুষের দৌড়গড়ায় পৌছাতে হবে। সাংগাঠনিকভাবে দুর্বল এলাকা চিহ্নিত করে দলকে শক্তিশালী ভীতের উপর দাড় করানোর কোন বিকল্প নাই ।

লেখকঃ সম্পাদক, সংসদগ্যালারী টোয়েন্টিফোরডটকম

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top