সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০ ইং, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ রবিউস-সানি ১৪৪২ হিজরী

You Are Here: Home » জিরো আওয়ার » হুজুর মওলানা ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

হুজুর মওলানা ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম:

১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর বিবিসির সংবাদে যখন আফ্রো-এশিয়া-ল্যাটিন আমেরিকার মজলুম জনতার মুক্তিদূত মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুসংবাদ পাই তখন আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধযুদ্ধে মেঘালয়ের পাদদেশে। বাঘমারা-দুর্গাপুর-কলমাকান্দার পাশে মহাদেওয়ে ছিলাম। এক নির্জন, নিঝুম পাহাড়ি এলাকা। বিবিসির সাড়ে ৭টার খবরে যখন হুজুর মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুসংবাদ ভেসে আসে তখন সমস্ত দেহমনে কাঁটা দিয়ে ওঠে। কিছু সময় কোনো বোধশক্তি ছিল না। চোখ থেকে অঝরে পানি ঝরছিল। ফিরিয়ে রাখার সামর্থ্য ছিল না। অসাড় হয়ে গিয়েছিল দেহমন। কী হারালাম ভেবে পাচ্ছিলাম না। আল্লাহ রব্বুল আলামিন জীবনের অনেক সাধ পূর্ণ করেছেন। বাঁধনছাড়া ছেলেবেলা শিক্ষা-দীক্ষা বিমুখ একেবারে তাচ্ছিল্যের একটা জীবন নিয়ে এত দূর এসেছি। যারা আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন তাদের সব ভাবনা এলোমেলো করে দিয়েছি। মা আর মাউইমার আদরযত্নে বেঁচে আছি। শিশুকালে আর সবই ছিল অযত্ন-অবহেলা। ছেলেবেলায় আপনজনের কাছে কোনো গুরুত্ব পাইনি, তাদের চোখে শুধু অপদার্থই ছিলাম। আল্লাহর কি কুদরত জগৎ স্রষ্টার কি অপার মহিমা বড় হয়ে কত লাখো কোটি মানুষের চোখের মণি হয়েছি। আপনজনের ভালোবাসা না পেলেও পরের ভালোবাসায় আমার জীবন ভরে গেছে। বাংলাদেশের জন্মের বেদনার সঙ্গে নিজেকে জড়াতে পেরেছি। শত্রু অনেক, ঘৃণা পাওয়ার মানুষের অভাব নেই। কিন্তু অপরিসীম ভালোবাসার মানুষও বেশুমার। এ অবক্ষয়ের জমানায় দয়া-মায়া -ভালোবাসাহীন দুনিয়ায় এখনো অতি সাধারণ মানুষ যখন বুকে আগলে নেয়, দুই হাত তুলে দোয়া করে, ছোটরাও স্পর্শ করে খুশি হয় তখন আর কীভাবে জীবনের সার্থকতা খুঁজতে যাব। স্বাধীনতার পর আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে যখন যা চেয়েছি মনে হয় তার সবই পেয়েছি। বিয়ে করেছিলাম অনেক দেরিতে। আমার স্ত্রী এক সম্ভ্রান্ত বংশের খুবই সাদামাটা অন্য জগতের মানুষ। আমার সঙ্গে তার চিন্তা-চেতনার কোনো মিল ছিল না। সাধারণ চালচলন, আচার-ব্যবহারেও পার্থক্য ছিল অনেক। যাতে অনেক কষ্ট পেয়েছি, তিনিও হয়তো পেয়েছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সে কষ্ট সে দুঃখ-বেদনা একদিন আনন্দে পরিণত হয়েছে। মায়ের কোল আলো করে সন্তান এসেছে। কিন্তু জ্বালা কমেনি। দীপ যখন সারা বাড়ি মাতিয়ে বেড়াত, কোনো কষ্ট কোনো দুঃখ দেহমনে ঠাঁই পেত না। দীপের যখন পাঁচ বছর তখন আবার আমাদের বুকজুড়ে ঘর আলো করে আসে আরেক দেবশিশু। সন্তানসম্ভবা নাসরীন যখন দেশে আসেন সে সময় তাকে বলেছিলাম, ‘ছেলে তো আমাদের আছেই, এবার মেয়ে চাই। মেয়ে না হলে বিছানায় নয়, তোমার জায়গা হবে ফ্লোরে।’ শুধু মেয়ের মাকে নয়, পরম প্রভু আল্লাহর কাছেও কেঁদেছি। হাদিস-কোরআনে দেখেছি, যেভাবে চাইলে আল্লাহ তাঁর বান্দাকে ফেরান না বা ফেরাতে পারেন না, সেভাবেই কেঁদেছি। আল্লাহর কাছে ইচ্ছা করে কাঁদা যায় না, আপনা থেকেই আসে। আর আল্লাহ যদি দয়া না করেন কারও কান্নারও ক্ষমতা নেই। তেমন কান্না হাজার বছর কাঁদলেও আল্লাহর গোচরে যায় না। আল্লাহ আমার কান্না আমার আকুলতা শুনেছিলেন। টাঙ্গাইলে এক অতি সাধারণ ক্লিনিকে আমার কুঁড়িমণির জন্ম। আল্লাহর কাছে আর কী চাই। ২০০৪ সালে চারদিক অন্ধকার করে মা চলে যাওয়ার পর কুশিমণি আসে। দীপ-কুঁড়ির জন্মের পরও আমার স্ত্রী পুরোপুরি মা হতে পারেননি, স্ত্রী হতে পারেননি। কিন্তু কুশিমণির আবির্ভাবে আমার স্ত্রী মা হয়েছেন স্ত্রী হয়েছেন, সর্বোপরি মমতাময়ী এক নারী হয়েছেন।

হুজুর মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর আজ মৃত্যুবার্ষিকী। গত রবিবার ছিল আমার পরিবারের আলোকবর্তিতা শান্তির আধার কুশি সিদ্দিকীর ১৫তম জন্মদিন। তাই বলছিলাম, আল্লাহর কাছে যখন যা চেয়েছি তেমন কিছুই অপূর্ণ রাখেননি শুধু দুটি চাওয়া ছাড়া।

২২ জানুয়ারি, ১৯৭২ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সঙ্গে লেখক ও অন্যরা।

জীবনে পরম সাধ ছিল আশা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতার লাশ বহন করা, কবরস্থ করা। আল্লাহতায়ালা জাতির পিতার লাশ বহন করার পর্যায়ে আমাকে নিয়েছিলেন। কিন্তু ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকের হাতে সপরিবার নির্মমভাবে নিহত হলে তাঁর লাশ কবরে নেওয়া আমার ভাগ্যে জোটেনি। প্রতিবাদ-প্রতিরোধযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। পিতার কবর দেখেছিলাম মৃত্যুর ১৬ বছর পর। অন্যদিকে হুজুর মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর লাশ বহনের প্রবল আকুতি ছিল। তাঁর লাশও বহন করতে পারিনি, কবর দিতে পারিনি। এ অপূর্ণ সাধ কখনো পূর্ণ হওয়ার নয়। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। তিনি যা ভালো মনে করেন তাই করেন। সেখানে আমাদের মতো মানুষের কারও কোনো হাত নেই।

আজ হুজুর মওলানা ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতিবারের মতো এবারও তাঁর মাজারে যাব আল্লাহর কাছে তাঁর মুক্তি, দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করব। হুজুর মওলানা ভাসানী অতি সাধারণ পরিবারে ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। শিশুকাল তাঁর খুবই কষ্টে কেটেছে। বাবা-মাকে হারিয়ে অনাথ হয়েছিলেন ছোটবেলাতেই। তারপর এখানে ওখানে কতখানে যে ঘুরেছেন! টাঙ্গাইল তাঁর জন্মভূমি নয়, টাঙ্গাইল তাঁর কর্মভূমি। অথচ টাঙ্গাইলকেই তিনি তাঁর হৃদয়ে স্থান দিয়েছিলেন। জন্ম কর্ম অবসানে টাঙ্গাইলেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। চারদিকে কোলাহল অশান্তি থাকলেও অযত্ন অবহেলা থাকলেও তিনি ঘুমিয়ে আছেন। নাসিরউদ্দিন বোগদাদি ছিলেন তাঁর পীর। তিনিই তাঁকে অনেকটা বড় করেছেন, ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন, মানবদরদি করে গড়ে তুলেছিলেন। সারা জীবন সংঘর্ষ আর সংঘাতের মধ্য দিয়ে কেটেছে। পাঁচবিবির জমিদার শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর মেয়ে আলেমাকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের বয়সের পার্থক্য প্রায় ২০ বছর। তাঁদের জীবন বেশ আনন্দের ছিল। হুজুর মওলানা ভাসানী তাঁর আর এক ভক্তের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁর বয়সের পার্থক্য ছিল আরও বেশি। বগুড়ার আদমদীঘির কাঞ্চনপুর গ্রামের কাসেমউদ্দিন সরকারের মেয়ের নাম আমি আমার ‘হুজুর মওলানা ভাসানীকে যেমন দেখেছি’ বইতে হালিমা খাতুন লিখেছিলাম। খুব সম্ভবত কাসেমউদ্দিনের এক নাতি কাঞ্চনপুর চাঁপাপুর আদমদীঘির রুবেল সরকার জুয়েল জানিয়েছিল নামটি হালিমা খাতুনের বদলে উমিলা খাতুন হবে। হুজুর মওলানা ভাসানী শখ করে তাঁর নামের সঙ্গে মিল রেখে রেখেছিলেন হামিদা খানম ভাসানী। সে লিখেছিল, ‘আমি কাসেম সরকারের ছেলে কয়েছ সরকারের নাতি। আমার বাবা সফিকুল সরকার। উমিলা খাতুন আমার দাদার আপন বোন। তাই আমার দাদি। আবু বকর ভাসানী আমার বড় আব্বা এবং আনোয়ারা, মনোয়ারা ভাসানী আমার ফুপু।’ আবু বকর ভাসানীর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাকে ভীষণ ভালোবাসতেন, সব সময় খোঁজখবর করতেন। পরম করুণাময় আল্লাহ তাঁর জানাজায় শরিক হওয়ার সৌভাগ্য দিয়েছিলেন। আবু বকরের বোন আনোয়ারা, মনোয়ারা। মনোয়ারার সঙ্গে খুব একটা জানাশোনা ছিল না। কিন্তু ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ’৯০-এ দেশে ফিরলে আনোয়ারা সব সময় আসত। আনোয়ারা এলে আমি হুজুর মওলানা ভাসানীর গন্ধ পেতাম। বড় ভালো লাগত। আমার স্ত্রী এখন একজন আদর্শ মানুষ। মানুষকে ভালোবাসতে সম্মান করতে মানুষের মূল্য দিতে শিখেছেন। আনোয়ারা যা চাইত সাধ্যমতো দেওয়ার চেষ্টা করতাম। আমাদের সামর্থ্য ছিল সীমিত। আর তার চাওয়াও আমাদের সামর্থ্যরে বাইরে ছিল না। তবে আনোয়ারাকে যখন যা দিতাম ভিক্ষে ভেবে নয়, সম্মান করেই দিতাম। কিন্তু বারবার মনে হতো যিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর গুরু, যে নেতার সান্নিধ্য না পেলে, সহযোগিতা না পেলে বঙ্গবন্ধু হতে পারতেন না, জাতির জনক হতে পারতেন না তাঁর সন্তানদের এ দুরবস্থা মেনে নিতে কষ্ট হয়। হুজুরের ছেলেরা তেমন মানুষের মতো মানুষ হননি। আবু নাসের ভাসানী একসময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী নাকি উপমন্ত্রী হয়েছিলেন। আবু বকর ভাসানী তার ইসলামী আন্দোলনের বাইরে যাননি। আরেকজন কিবরিয়া সে নেশাতেই বুঁদ হয়ে থাকে। কারও কোনো আর্থিক শক্ত ভিত নেই। আগের কথা ছেড়ে দিলাম, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর হুজুর মওলানা ভাসানীর পরিবার-পরিজনকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি দেওয়া প্রয়োজন ছিল। যারা চাকরি-বাকরি করেন এমনকি পাকিস্তানের চাকরিতেও যারা ছিলেন তারাও বাংলাদেশ সরকারের পেনশন পেয়েছেন। কিন্তু হুজুর মওলানা ভাসানীর সন্তান-সন্ততি, নাতি-পুতিরা কেন সম্মানি পেলেন না বা পাবেন না? কতজন বসবাসের জন্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি পেয়েছেন। আমিও ২০/৩০ বাবর রোডের বাড়িতে ’৭২ সাল থেকে থাকি। যদিও বাড়িটি এখনো আমাকে বৈধ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আমার কত বোঁচকা টানারা গুলশান-বনানী-ধানমন্ডিতে বিঘা, দুই বিঘা জমির ওপর বাড়িঘর পেয়েছে বা নিয়েছে; আমার বাবর রোডের ৫ কাঠার একসময়ের জীর্ণ বাড়ি এখনো বৈধ হলো না! আমি জীবিত থাকতে আর যে হবে তা হলফ করে বলতে পারি না। তবু একটি বাড়িতে আছি। হুজুর মওলানা ভাসানীর পরিবার-পরিজন সে সুযোগও পায়নি। আমার কাছে ব্যাপারটা বড় অবিচার মনে হয়।

একজন জাতীয় নেতা, দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে হুজুর মওলানা ভাসানী কখনো তেমন মর্যাদা পাননি। যখন যা পেয়েছেন প্রায় সবই দায়সারা। সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। তাঁর নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে কোনো শ্রদ্ধা-ভক্তি করে না। বিশেষ করে বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলরের আমলে হুজুর মওলানা ভাসানীর তেমন কোনো গুরুত্বই নেই। তাঁর জন্মদিন কবে অনেকেই জানে না, মৃত্যুদিন যাওবা দু-চার জন জানে। যে দলের জন্ম দিয়েছিলেন সেই আওয়ামী লীগ তাঁর মৃত্যুদিনে তেমন কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বই দেয় না। নিম্ন শ্রেণির কোনো নেতার মনে হলে যায়, মনে না হলে যায় না। কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, ‘বর্তমানে কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই নবী/কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুজে তাই সই সবি!’ আমার ব্যাপারও হয়েছে তাই। মনে পড়ে কষ্ট হয়। আমাদের নেতাদের অবহেলা করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যে আমাদের অবহেলা করবে তাই এত জ্বলন আমার। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যেমন অবহেলা বুকে বাজে, হুজুর মওলানা ভাসানীকে নিয়েও তেমনি বাজে। তাই আশা করব, সরকার এ ব্যাপারে যথাযোগ্য গুরুত্ব ও মর্যাদা দেবে।

কয়েক বছর আগে হুজুর মওলানা ভাসানীকে নিয়ে লিখেছিলাম। যাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রধান নেতা হিসেবে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে তুলে ধরেছিলাম। লেখাটা পড়ে বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘বজ্র, তোর লেখায় তথ্যবিভ্রাট আছে। হুজুর মওলানা ভাসানী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বা জাতির পিতার একমাত্র নেতা নন।’ আমি বলেছিলাম, যেহেতু হুজুর মওলানা ভাসানীকে নিয়ে লেখা সেহেতু জেনেশুনেই অমন লিখেছি। পাকিস্তান হওয়ার আগ পর্যন্ত হুজুর মওলানা ভাসানীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের তেমন যোগাযোগ বা ঘনিষ্ঠতা ছিল না। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রধান নেতা ও হিতৈষী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকও বঙ্গবন্ধুকে ¯েœহ করতেন ভালোবাসতেন, প্রয়োজনে সহযোগিতা করতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সব সময়ই কর্মচঞ্চল নিষ্ঠাবান একজন কর্মী ছিলেন। সেজন্য তাঁর বিরোধীরাও তাঁকে গুরুত্ব দিত, সম্মান করত। শুধু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকই নন, খাজা নাজিমউদ্দিন এমনকি চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী, বর্ধমানের আবুল হাশিম সবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। আমার সে লেখার প্রাধান্য ছিল ’৪৯-এ আওয়ামী লীগ জন্মের পরের দিকটা। বিশেষ করে বৈরুতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মারা গেলে ’৬৪ থেকে বাকি সময়টা হুজুর মওলানা ভাসানীই ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রকৃত নেতা। বিশেষ করে ’৪৯ থেকে ’৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলন পর্যন্ত হুজুর মওলানা ভাসানীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছায়ার মতো কাজ করেছেন। সত্যিকার অর্থে সে সময় থেকে স্বাধীনতা পর্যন্ত যা কিছু করেছেন গুরু-শিষ্য পরামর্শ করেই করেছেন। যার ফল হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। যে যাই বলুন, পন্ডিতরা যেভাবেই নিয়ে যান, ’৭০-এ হুজুর মওলানা ভাসানী ওইভাবে নির্বাচন থেকে সরে না গেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানের একক নেতা হতেন না। ১৫-২০টি সিট যদি অন্যত্র চলে যেত তাহলে ’৭০ সালেও ’৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে বিজয়ের পরের ফলাফল হতো। আমরা প্রায় সবাই তো একদিকদর্শী। আমরা খুব একটা অন্যের ভালোমন্দ বিবেচনা করি না, সবকিছু নিজের মতো করে ভাবী।

জানি না আর কবার হুজুরের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার মাজারে যেতে পারব, ফাতিহা পাঠ করতে পারব। বেঁচে থেকে নিজের জীবদ্দশায় যদি তাঁর এবং তাঁর পরিবারের যথাযথ মূল্যায়ন দেখতে পারতাম তাহলে কতই না ভালো লাগত। তাই তাঁর মৃত্যুদিনে দেশবাসীর কাছে যেমন প্রার্থনা, তেমনি মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ তারা যেন হুজুর মওলানা ভাসানীর অবমূল্যায়ন না করেন, তাঁর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্টের চেষ্টা না করেন- এদিকে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ আশা করছি।

লেখক : রাজনীতিক।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





Leave a Comment

You must be logged in to post a comment.

© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top