বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১ ইং, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ রমযান ১৪৪২ হিজরী

You Are Here: Home » আন্তর্জাতিক » ইতিহাস হলেন কমলা হ্যারিস

ইতিহাস হলেন কমলা হ্যারিস

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ইতিহাস গড়া কমলা হ্যারিস প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ যিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার মা ছিলেন ভারতীয়। এটিও ইতিহাস হয়ে রইল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। কমলার মায়ের বাড়ি দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতে। তার মায়ের নাম শ্যামলা গোপালন। অ্যান্ডোক্রিনোলজি নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি পাড়ি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে বার্কলির ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা করতেন। প্রখ্যাত স্তন ক্যান্সার গবেষক ও বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী ছিলেন তিনি। বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলিতে পড়োশোনা করার জন্য ১৯ বছর বয়সে শ্যামলা ভারত ছেড়ে আসেন। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সঙ্গে অর্থনীতির অধ্যাপক জ্যামাইকান-আমেরিকান ডোনাল্ড জে হ্যারিসের পরিচয়। সে সময় মানবাধিকার, ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী ও ভোটের অধিকার নিয়ে চলা আন্দোলনে তারা যুক্ত হন এবং এক সময় প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। সেই বন্ধুত্ব প্রেম ও বিয়েতে গড়ায়। তাদের ঘরে আসে দুই মেয়ে। এক মেয়ের নাম কমলা। আরেক মেয়ের নাম মায়া। কমলার বয়স যখন সাত বছর তখন এ দম্পতির বিচ্ছেদ ঘটে। দুই মেয়েকে নিয়ে আলাদা হয়ে যান শ্যামলা।

‘আমি শ্যামলা গোপালনের মেয়ে’

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর কমলা তার মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। এ সময়ও বাবার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তাদের। বাবা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক। ছুটি কাটাতেও দুই মেয়ে বাবার কাছে ছুটে যেতেন। শৈশবে, কৈশোরে ভারতের চেন্নাইতে নানার বাড়িতে আসতেন কমলা। তার নানা পি ভি গোপালন ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী। উচ্চপদস্থ আমলার পদে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। কমলা নিয়মিত তামিলনাড়ুতে তার নানার বাড়িতে আসতেন। যে কারণে তার শৈশব গড়ে উঠেছিল মিশ্র সংস্কৃতিতে। কমলার মা শ্যামলা স্তন ক্যান্সার নিয়ে গবেষণার জন্য পৃথিবীর নানা দেশে ছুটতেন। তখন সঙ্গে নিয়ে যেতেন মেয়েদেরও। মায়ের কাজের জন্য কমলার ছাত্রী জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে কানাডার কুইবেক শহরে। কুইবেকে একটি হাসপাতালে গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন কমলার মা।

একবার কমলার বন্ধু মিমি সিলবার্ট বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘কমলার ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ রোল মডেল এবং সেটা ছিল তার মা।’ কমলার ওপর তার মায়ের প্রভাব সবকিছু ছাপিয়ে যায়। কমলা তার স্মৃতিকথা ‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড : অ্যান আমেরিকান জার্নি’ বইয়ে লিখেছেন, ‘আমি শ্যামলা গোপালন হ্যারিসের মেয়ে, এ কথা বলার চেয়ে দুনিয়ায় আমার কাছে আর কোনো অধিক উপাধি বা সম্মানের কিছু নেই।’

ঘরে ভারতীয় খাবার, হাতে মেহেদি, যেতেন চার্চে কখনো মন্দিরে

কমলা হ্যারিসের জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে। এখন তার বয়স ৫৬। তার ছোট বোনের নাম মায়া লক্ষ্মী। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারণায় সরব ছিলেন তিনি। কমলা ওকল্যান্ডে জন্ম, কানাডায় পড়াশোনা আবার ভারতে ছুটে আসা, সব মিলিয়ে একটি মিশ্র আবহে বেড়ে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্য নিয়ে তার অভিযোগ থাকলেও নিজে বন্ধুভাবাপন্ন সমাজেই বেড়ে উঠেছেন। মায়ের সঙ্গে কমলা ও মায়া থাকতেন ক্যালিফোর্নিয়ার অশ্বেতাঙ্গপ্রধান একটি এলাকায়। তাদের বন্ধুরা অনেকেই ছিলেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। ফলে বর্ণবৈষম্যের সমস্যায় তাদের পড়তে হয়নি। ভারতীয় খাবার খাওয়া থেকে হাতে মেহেদি লাগানো, সবই করতেন বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে। তার মায়ের ধর্মীয় আগ্রহ তাকে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করেছে। কমলার জীবনীতে দেখা যায়, তারা দুই বোন গির্জায় উপাসনাসংগীতে অংশ নিতেন। আবার পাশাপাশি তারা নিয়মিত যেতেন মন্দিরেও।

যেভাবে রাজনীতিতে জড়ালেন

অপরাধবিরোধী নীতির কারণে তিনি ব্যাপক সমালোচনা সয়েছেন। দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন আইনজীবী হিসেবে। তিনি বারবার সরব হয়েছেন মৃত্যুদন্ডের বিরোধিতা করে

কমলা হ্যারিস কুইবেকের ছাত্রী জীবনের পরে হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন। ডক্টরেট করেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হেস্টিংস কলেজ অব দ্য ল’ থেকে। ১৯৯০ সালে তিনি বার পাস করেন। আইনজীবী হিসেবেই তিনি ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন। এরপর তিনি আলমেডা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসে ক্যারিয়ার শুরু করেন। তাকে কাজ দেওয়া হয় সানফ্রান্সিসকো ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসে। সেখান থেকে যান সানফ্রান্সিসকো সিটি অ্যাটর্নির অফিসে। ওকল্যান্ডে সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কমলা হ্যারিস দৃষ্টি দেন যৌন অপরাধের দিকে। আলমেডাতে তিনি টিনএজ পতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে দমনপীড়ন চালান। ২০০৩ সালে তিনি সানফ্রান্সিসকোর ২৭তম ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে অল্প ভোটের ব্যবধানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়াতে অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন। প্রথম মার্কিন-আফ্রিকান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে তিনি এই দায়িত্বে সম্মানিত হন। ২০১৪ সালে আবার নির্বাচিত হন। সাত বছর সানফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ছয় বছর অ্যাটর্নি জেনারেল থাকার পরে ২০১৬ সালে প্রথম অশ্বেতাঙ্গ মহিলা সিনেটর হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত হন কমলা। পরাজিত করেন লরেটা সানচেজকে। এর মধ্য দিয়ে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার তৃতীয় নারী সিনেটর হন। একই সঙ্গে তিনি আফ্রিকান-আমেরিকান নারী এবং প্রথম সাউথ এশিয়ান-আমেরিকান হিসেবে সিনেটে দায়িত্ব পালন করেন। সিনেটর হিসেবে তিনি স্বাস্থ্যসেবা খাতে সংস্কারকে সমর্থন করেন। অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্বের জন্য ড্রিম অ্যাক্টের পক্ষে অবস্থান নেন। অ্যাসল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ করার পক্ষে ছিল তার অবস্থান। একই সঙ্গে প্রগতির পক্ষে ট্যাক্স সংস্কারের সমর্থক ছিলেন। এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাট দল থেকে প্রচারণা চালান। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি ফ্রন্টরানার হয়ে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ট্রাম্পবিরোধী ‘লেডি ওবামা’

ট্রাম্পকে তুলাধোনা করে সাধারণ জনগণের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা পান কমলা। ট্রাম্পের মিথ্যা আর অযৌক্তিক বক্তব্যগুলোর কড়া জবাব দিতেন কমলা। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলা থেকে শুরু করে অবৈধ অভিবাসী শিশুদের বাবা-মা থেকে আলাদা করে আটকে রাখাÑ ট্রাম্প প্রশাসনের একের পর এক সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে যখন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কমলা তখন ট্রাম্পের সব ব্যর্থতার খতিয়ান পাওয়া যেত তার কাছে। তার বক্তব্যে জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ত। যে কারণে সবাই তাকে ‘লেডি ওবামা’ বলে ডাকত।

টাকার অভাবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পদ ছেড়ে দেন

দলীয় মনোনয়নের আগে গত বছর থেকে সবাই ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জানত কমলা হ্যারিসকে। মিডিয়ার ফোকাস ছিল তার ওপর। সানফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ও ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল পদে থাকাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান সমালোচক ছিলেন কমলা। অনেকেই ভেবেছিলেন, বারাক ওবামার পরে হয়তো আরও এক অশ্বেতাঙ্গ এবং প্রথম মহিলা হিসেবে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের আসনে বসতে চলেছেন। কিন্তু শেষ অবধি কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্টের দৌড় থেকে নিজের নাম সরিয়ে নেন। প্রচার চালানোর মতো যথেষ্ট অর্থের অভাবেই যে মূলত তাকে নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে আসতে হলো, তা সমর্থকদের একটি ই-মেইলে জানান কমলা। প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াই থেকে সরে আসার পর জো বাইডেন তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার মনোনয়ন দেন।

বাইডেনের ভোটব্যাংক কমলা

মার্কিন ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন ছিল কমলা হ্যারিসের ওপর। প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চেয়েছিলেন তিনিও। কিন্তু তহবিলের অভাবে সে পদ ছেড়ে দেন। এগিয়ে যান বাইডেন। কমলা হ্যারিসের জনপ্রিয়তা কাজে লাগান অভিজ্ঞ বাইডেন। তার রানিংমেট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমলাকে মনোনীত করেন তিনি। সে সময় কমলাকে একজন নির্ভীক যোদ্ধা বলেও বর্ণনা করেছিলেন তিনি। কমলাকে মনোনীত করার পর বাইডেন বলেন, ‘আমরা দুজনে মিলে এবার ট্রাম্পকে কড়া টক্কর দেব।’ কমলাকে রানিংমেট করায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘অবাক হচ্ছি, বাইডেন এ রকম একজন ব্যক্তিকে কীভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোনীত করতে পারলেন!’ প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের প্রথম দিকের বিতর্কে বাইডেনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেছিলেন কমলা। সবাই ভেবেছিল বাইডেন আর যাই হোক কমলাকে রানিংমেট করবেন না। কিন্তু নির্বাচনের আগে কমলাকে রানিংমেট ঘোষণা করে সবাইকে চমকে দেন বাইডেন। সেই চমকের পেছনে ছিল ভোটের হিসাব-নিকাশ, যা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। বাইডেনের পপুলার ভোটের জোয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায় কমলা হ্যারিস তার ভোটব্যাংক হয়ে উঠেছিলেন। বর্ণবৈষম্য নিয়ে উত্তপ্ত আমেরিকায় নির্বাচনের আগে কমলাকে বেছে নিয়ে অশ্বেতাঙ্গদের ভোট লুফে নিয়েছেন বাইডেন। কমলার জন্যই ভারতীয় ও এশিয়ান বংশোদ্ভূত ভোটারদের প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠেন বাইডেন। এ ভোটগুলো কমলা হ্যারিসের সমর্থন ও প্রচারণার ফল। রিপাবলিকান সমর্থকদেরও কাছে টেনে নিয়েছিলেন কমলা। যে কারণে ট্রাম্পবিরোধী ভোটগুলো ডেমোক্র্যাটদের ঝুলিতে জমা হয়। বেজে যায় ট্রাম্পের বিদায় ঘণ্টা।

হোয়াইট হাউসে যেভাবে পৌঁছলেন ভারতীয় মায়ের মেয়ে

আফ্রো-আমেরিকান সংস্কৃতির পাশাপাশি ভারতীয় সংস্কৃতিতে বড় হয়েছেন কমলা। আইনের ছাত্রী ছিলেন। ২০১৬ সালে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা সিনেটর হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত হন কমলা হ্যারিস।

► ২০১০ ও ২০১৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার পর সবার নজরে পড়েন তিনি। ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে নাম দিলেও সেখানে হেরে যান। তারপর তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দেন জো বাইডেন। তিনি সাগ্রহে গ্রহণ করেন এ প্রস্তাব।

► ভোট প্রচারে বারবার মায়ের কথা বলতেন কমলা। তার কথায়, ‘মাত্র পাঁচ ফুট উচ্চতার আমার মা যখন আমায় ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে কাইসার হাসপাতালে জন্ম দিয়েছিলেন, তখন তিনি ভাবতেই পারেননি যে একদিন আমি এই জায়গায় পৌঁছব।’

► ভোট প্রচারে নানান বিদ্রুপ সহ্য করতে হয়েছে তাকে কমলা নামের জন্য। ইচ্ছা করে বিকৃতভাবে রিপাবলিকানরা নামটি উচ্চারিত করেছেন। তাকে ‘ডাইনি’ বলে সম্বোধন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু কিছুই টলাতে পারেনি তাকে।

► জর্জ ফ্লয়েডের হত্যা ট্রাম্প প্রশাসনে পরাজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। মাস তিনেক আগে যখন কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে অশান্তির দাবানল জ্বলছে যুক্তরাষ্ট্রে তখন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন কমলাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এখন তো আমাদের তিনটি জিনিসের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। অতিমারী, অর্থনীতি আর জাতিবিদ্বেষ।’

► ওকল্যান্ডে আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা কমলা কাজের মাধ্যমে সবার নজর কাড়েন। মাইক পেন্সকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন আমেরিকার প্রথম নারী ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। আগামী বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন।

তার স্বামী হলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড জেন্টেলম্যান

ইতিহাসে ঢুকে গেছেন কমলা হ্যারিসের স্বামী ডগলাসও। প্রথমবারের মতো কোনো নারী মার্কিন নির্বাচনে জয়ের পর তার স্বামীকে কী উপাধি দেওয়া যায় সে নিয়ে অনেক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া সরগরম ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্ত্রীকে ডাকা হয় ফার্স্ট লেডি। আর ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রীকে বলা হয় সেকেন্ড লেডি। এ হিসাবের বাইরে তেমন একটা আলোচনা হয়নি। কিন্তু এবার ‘সেকেন্ড লেডি’ বলে যে কেউ থাকছেন না, তা স্পষ্ট। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ায় ফার্স্ট লেডি হচ্ছেন তার স্ত্রী জিল বাইডেন। কিন্তু এত দিন সেকেন্ড লেডি থাকলেও এবার তো আর সেকেন্ড লেডি থাকছেন না। যুক্তরাষ্ট্রে এ পরিস্থিতি এর আগে কখনো সৃষ্টি হয়নি। এই আলোচনার শুরু মূলত ২০১৬ সালের নির্বাচনে। সে সময় নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন হিলারি ক্লিনটন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, হিলারি জিতলে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে কী ডাকা হবে? ‘ফার্স্ট জেন্টেলম্যান’, নাকি ‘ফার্স্ট স্পাউস’, নাকি ‘ফার্স্ট হাজব্যান্ড’?

কমলা ইতিহাস গড়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। সিএনএনের দুই আলোচক বলেন, তার স্বামীকে হয়তো ‘সেকেন্ড হাজব্যান্ড’ কিংবা ‘সেকেন্ড স্পাউস’ বলা হবে।

তবে নিউইয়র্ক টাইমস গত আগস্টেই ডগলাসকে ‘সেকেন্ড জেন্টেলম্যান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top