রবিবার, ৯ মে ২০২১ ইং, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭ রমযান ১৪৪২ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » মওদুদ সব সময় সরকার ঘেঁষা ছিলেন: শেখ হাসিনা

মওদুদ সব সময় সরকার ঘেঁষা ছিলেন: শেখ হাসিনা

সংসদ প্রতিবেদক:

সদ্য প্রয়াত বিএনপি নেতা  ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সর্ম্পকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মওদুদ আহমদ সবসময় একটু সরকার ঘেঁষাই ছিলেন। বার বার দল বদল করা তার একটা অভ্যাস ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারপরেও আমি বলব, তিনি একজন ট্যালেন্টেড মানুষ ছিলেন। তিনি যদি মেধাকে যথাযথভাবে কাজে লাগতেন তাহলে হয়তো দেশকে অনেক কিছু দিতে পারতেন।

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে শোক প্রস্তাবেরর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মওদুদ ব্যারিস্টারি পাস করে ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশে আসেন। তিনি কবি জসিম উদ্দিনের মেয়ের জামাই বলে সব সময় তার প্রতি একটু সহানুভূতি ছিল। কিন্তু তার কিছু কিছু ছিল একটু ভিন্ন ধরণের। যার কারণে ১৯৭৩ সালে তাকে একবার গ্রেফতারও করা হয়। কারণ বাংলাদেশের কিছু গোপন তথ্য তিনি সে সময় পাচার করছিলেন। ওই সময় কবি জসিমউদ্দিন সাহেব নিজে এসেছিলেন আমাদের বাসায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছে অনুরোধ করলেন বলে তখন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।’

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়। তাকে বন্দি করা হয়। তখন সেই মামলা চলছিল। মওদুদ তার জীবনীতে লিখেছেন তিনি সেই মামলার আইনজীবী ছিলেন। আসলে তিনি কোন অ্যাপয়েন্টেড আইনজীবী ছিলেন না। তিনি ড. কামাল হোসেন সাহেবের সঙ্গে ঘুরতেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর পিএ মোহাম্মদ হানিফের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন। বিশেষ করে ব্যারিস্টার আমির উল ইসলামের সঙ্গেও তার খুব ঘনিষ্ঠতা ছিল।’

সংসদ নেতা বলেন, “আইয়ুব খান গোলটেবিল বৈঠক ডাকল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে আগরতলা মামলায় বন্দি অবস্থায় প্যারোলে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলো। সেই প্রস্তাব আমার মাকে জানালে তিনি খুব কঠিন পদক্ষেপ নিয়ে বলেছিলেন। তিনি বললেন, বঙ্গবন্ধু মুক্ত মানুষ হিসেবেই যেন ফিরে আসেন। তিনি প্যারোলে যাবেন না। এই তথ্যটা আমার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে পৌঁছে দিয়েছিলাম ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে, সেখানে অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তারা প্যারালে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু আমি আমার মায়ের বার্তাটা পৌঁছে দিই। এমনকি বঙ্গবন্ধু নিজেও প্যারোলে যেতে চাননি। এরপর আমি যখন ফিরে আসি তখন দেখি, ব্যারিস্টার আমির উল ইসলাম আর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আমাদের বাড়িতে। তখন আমির উল ইসলাম সাহেব আমাকে বললেন, ‘তুমি কেমন মেয়ে যে তোমার বাবা কারাগার থেকে ফিরে আসুক এটা চাও না?’ ব্যারিস্টার মওদুদ তাতে সায় দিয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম আমার বাবা সন্মান নিয়েই ফিরে আসবে। আপনারা এই সমস্ত বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (মওদুদ) মুখে যাই বলুক তার লেখাগুলোর মধ্যে অনেক কন্ট্রভার্সি আপন মনের মাধুরী মিশিয়েও লিখেছেন। আর উনি দল বদল করতে পছন্দ করতেন। যখন আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাওয়ার কথা সেই সুযোগে ১৯৬৯ সালে মিশে গেলেন। পরবর্তী ১৯৭৫ সালে বিএনপিতে যোগ দিলেন। এরপর যখন এরশাদ এলেন তিনি (মওদুদ) একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। এরশাদ তার সাজা মওকুফ করে দিয়ে মন্ত্রিপরিষদে আইনমন্ত্রী করলেন। এরপর আবার তিনি বিএনপিতে যোগ দিলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মওদুদ যখন মারা গেলেন আমি নিজে ফোন করেছিলাম হাসনাকে। কারণ হাসনার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল সবসময়। আমি ফোনে সিঙ্গাপুরে ওর সঙ্গে কথা বলি।’

সংসদে চলতি সংসদের সদস্য মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী সহ সাবেক এমপি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আনীত শোক প্রস্তাবে সংসদ নেতা ছাড়াও সরকারি ও বিরোধীদলীয় এমপিরা অংশ নেন।

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top