রবিবার, ৯ মে ২০২১ ইং, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৭ রমযান ১৪৪২ হিজরী

You Are Here: Home » ফটো গ্যালারী » কোভিড -১৯ ও দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাঃ করণীয় ও বর্জনীয়

কোভিড -১৯ ও দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাঃ করণীয় ও বর্জনীয়

মোঃ মনিরুল ইসলাম

 বর্তমান করোনাভাইরাস (SARS-CoV-2) দ্বারা সৃষ্ট কোভিড -১৯ রোগী প্রথমবারের মতো চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের শেষের দিকে সনাক্ত করা হয়।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২০ সালের ১১ মার্চ কোভিড -১৯ কে মহামারী হিসাবে ঘোষণা করে এবং এই রোগ আক্রমণাত্মকভাবে বিশ্বজুড়ে খুব দ্রুত  ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এই ভাইরাস এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রামিত হচ্ছে।  কোভিড -১৯ আক্রান্তরা গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতায় আংশিক, হালকা, মাঝারি বা গুরুতর উপসর্গ দেখতে পাচ্ছেন। বয়স্ক এবং অন্যান্য রোগ (উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ফুসফুসে সংক্রমন, বিভিন্ন অংগের কার্যহীনতা ইত্যাদি) রয়েছে এমন লোকেরা কোভিড -১৯ এ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন।

এই ভাইরাস যখন আমাদের দেহে প্রবেশ করে, তখন দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) একে বাধা প্রদান করার চেষ্টা করে। আমাদের দেহকে যদি একটি দেশের সাথে তুলনা করা যায়, তাহলে এর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে দেশটির ডিফেন্স শক্তি যা বাইরের শত্রু থেকে দেশকে নিরাপদ রাখে। এটি শরীরকে বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদার্থ, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রোটোজোয়ান, কৃমি এবং কোষের পরিবর্তন থেকে রক্ষা করে। ইমিউন সিস্টেমের অন্যতম প্রধান উপাদান হ’ল শ্বেত রক্ত কণিকা, যা রক্তনালীগুলির মাধ্যমে সারা শরীর জুড়ে ভ্রমণ করতে পারে। জীবাণু আক্রমণ করার জন্য, শরীর রক্ত এবং লসিকা নালীগুলোর মধ্যে কোষ এবং তরল আদান প্রদান করে এবং লসিকা তন্ত্রকে সক্রিয় করে। তারা দেহের সর্বত্র বাইরের ক্ষতিকর বস্তুসমূহের (অ্যান্টিজেন) জন্য টহল দিতে থাকে প্রতিরোধক কোষগুলি লিম্ফ নোড এবং প্লীহার অংশগুলিতে অ্যান্টিজেনগুলির মোকাবেলা করতে শুরু করে।

করোনাভাইরাস কাশি ও হাঁচির ফোঁটাগুলির মাধ্যমে সংক্রামিত হয় এবং শ্বাসনালীর দ্বারা দেহের ভিতরে প্রবেশ করে এবং প্রতিলিপি শুরু করে। ভাইরাসটি সহজাত প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বারা প্রথমে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এরপরে ভাইরাসটি দেহের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এটি আরও শক্তিশালী প্রতিরোধের প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়। এই পর্যায়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদান যেমন ন্যাচারাল কিলার কোষ, ইন্টারলিউকিন, সাইটকাইন, অ্যান্টিবডি ইত্যাদি অংশগ্রহণ করে থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত দেহের ইমিউন সিস্টেম স্বাভাবিকভাবে কাজ করে, ততক্ষণ এই ভাইরাস এর ক্ষতিকর প্রভাব অনুভূত হয় না। কিন্তু দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যদি দুর্বল হয় তাহলে ভাইরাস গুলো এটাকে অতিক্রম করে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ক্ষতিসাধন করতে পারে। আমরা যদি আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারি তাহলে এই ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে খুব সহজেই বেঁচে থাকতে পারব। গবেষকগণ  কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা করে চলেছেন। বেশিরভাগ সময় প্রতিরোধ ব্যবস্থা নতুন কোনও কিছুর মুখোমুখি হয় এবং এটিকে নির্দোষ বলে বিবেচনা করে। একটি স্বাস্থ্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্ষতিকারক সংক্রমণের জন্য প্রতিক্রিয়া জানায়। যখন অ্যান্টিজেনগুলি শরীরে প্রবেশ করে, তারা এটিকে হোস্ট হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেকগুলো হুমকি তৈরি করে।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO) এর রিপোর্ট অনুসারে শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার ও হাইড্রেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে অত্যন্ত খুব ভাল ভূমিকা পালন করে থাকে। উদাহরনস্বরুপ বলা যায়, পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন বি সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে, ভিটামিন সি ফ্লুয়ের  মতো লক্ষণগুলি থেকে রক্ষা করে,  অপর্যাপ্ত ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন ই করোনভাইরাস সংক্রমণের তীব্রতার কারণ হতে পারে । ভিটামিন ডি সূর্যের আলোতে পাওয়া যায় এবং ভিটামিন ই পাওয়া যায়, তেল, বীজ এবং ফলসমূহে। ইমিউন সিস্টেম বজায় রাখার জন্য জিংক প্রয়োজনীয়।  প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনোগ্লোবিউলিন উৎপাদন) এবং সম্ভাব্য অ্যান্টিভাইরাল সক্রিয়তা রয়েছে। অতএব, নিয়মিত ভাবে ফল, শাকসব্জী, বাদাম, দানাদার খাবার খাওয়া উচিত। কোভিড -১৯ রোগীদের জন্য অপুষ্টি বিপজ্জনক এবং তাই সঠিক পুষ্টি সরবরাহ করা উচিত একান্ত আবশ্যক। ফলের রস, চা এবং কফিও খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন, মিষ্টিযুক্ত ফলের রস, সিরাপ, ফ্রিজের পানীয় এবং কোমল পানীয়গুলি এড়ানো উচিত। অসম্পৃক্ত চর্বি, সাদা মাংস এবং মাছ খাবারের তালিকায় থাকা উচিত। অপরদিকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, লাল মাংস, প্রতিদিন ৫ গ্রামের বেশি লবণ এবং প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার এড়ানো উচিত । সুষম খাবারের পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম করা  দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার আরও একটি নিয়ামক। যেহেতু এখন পর্যন্ত এই রোগের শতভাগ কার্যকরী কোন চিকিৎসা উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্রমণ হার কমানো এবং দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।

লেখক

প্রভাষক

ফার্মেসি বিভাগ

নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ

 

Tweet about this on TwitterShare on Google+Print this pageShare on LinkedInShare on Tumblr





Leave a Comment

You must be logged in to post a comment.

© 2014 Powered By Sangshadgallery24.com

Scroll to top